• ঢাকা
  • শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ১২:২৬ এএম


সংকট সামলাতে জ্বালানি খাতে সরকারের নতুন কৌশল

The Pulse BD online news desk
আপডেট টাইম: ৩১ মার্চ ২০২৬ ৪:৪৫ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার প্রভাবে দেশের জ্বালানি খাতে বাড়তে থাকা চাপ মোকাবিলায় একগুচ্ছ সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। এর মধ্যে সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানো, সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য ওয়ার্ক ফ্রম হোম চালু করা এবং অফিস সময়সূচিতে পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলো সক্রিয়ভাবে বিবেচনায় রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং ডলার সংকটের কারণে সরকার কৃচ্ছ্রসাধনের পথে হাঁটার কথা ভাবছে। আলোচনায় থাকা প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে সপ্তাহে অতিরিক্ত একদিন ছুটি দেওয়া বা কর্মকর্তাদের সপ্তাহে দু’দিন ঘরে বসে কাজের সুযোগ তৈরি করা। পাশাপাশি অফিসের কাজ আগেভাগে শুরু করা কিংবা মোট কর্মঘণ্টা কমানোর বিষয়েও আলোচনা চলছে।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আংশিক অনলাইন ক্লাস চালুর বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, সপ্তাহের একটি অংশ অনলাইনে ক্লাস নেওয়া হতে পারে। তবে এসব বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি; মন্ত্রিসভার বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

জানা গেছে, জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। অপ্রয়োজনীয় সরকারি ঋণ পরিহার এবং কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংশ্লিষ্টরা জানান, সব সরকারি সংস্থাকে জ্বালানি সাশ্রয় সংক্রান্ত নিজস্ব প্রস্তাব তৈরি করতে বলা হয়েছে। এসব প্রস্তাব আগামী বৃহস্পতিবারের মন্ত্রিসভা বৈঠকে উপস্থাপন করা হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আপাতত তিন মাসের স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে, তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হতে পারে।

এদিকে, তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চায় না সরকার। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতি অবনতি হলে দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা।

সরকার ইতোমধ্যে জ্বালানি সাশ্রয়ে কিছু নির্দেশনা জারি করেছে। এর মধ্যে রয়েছে দিনের বেলায় প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার, এসির তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি রাখা এবং প্রয়োজন ছাড়া বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ রাখা। এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রতিটি দপ্তরে তদারকির জন্য ভিজিল্যান্স টিম গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে চাপ বাড়ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে আমদানিনির্ভর দেশ বাংলাদেশে। জ্বালানি ও এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বিদ্যুৎ উৎপাদনেও প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের বিঘ্ন দেখা দিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে সরবরাহ সংকটের কারণে বাংলাদেশকে স্পট মার্কেট থেকে বেশি দামে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে। এতে ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ খাতকে ব্যয়বহুল বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করে জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আমদানি করা এলএনজি দেশে পৌঁছালে স্বল্পমেয়াদে বড় ধরনের সংকট এড়ানো সম্ভব হতে পারে।