• ঢাকা
  • সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৫৪ পিএম


ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা সরিয়ে গরুর খামারে বিনিয়োগ, ক্যাশ ইনচার্জসহ গ্রে/ফতার ২

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৩ আগস্ট ২০২৬ ৮:৩১ পিএম

একটি ব্যাংক ঋণ পেতে গ্রাহকদের যেখানে ম্যানেজারের পেছনে ছুটতে হয় এবং নানা কাগজপত্র দিতে দিতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়, সেখানে চট্টগ্রামে অগ্রণী ব্যাংকের এক ক্যাশ ইনচার্জের বিরুদ্ধে ভিন্ন পদ্ধতিতে টাকা সরিয়ে বিনিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গ্রাহকের আমানতের টাকা ব্যাংকের ভল্ট থেকে সরিয়ে গরুর খামারে বিনিয়োগ করেছেন তিনি। এভাবে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ব্যাংকের ক্যাশ ইনচার্জসহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

চট্টগ্রামের লালদীঘিপাড় জেলা পরিষদ ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি লিমিটেডের করপোরেট শাখায় এ ঘটনা ঘটে। নিয়মিত হিসাব মেলাতে গিয়ে ভল্টে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থের ঘাটতি ধরা পড়ার পর বিষয়টি সামনে আসে।

এ ঘটনায় ব্যাংকের ম্যানেজার মোস্তাক আহমেদ বাদী হয়ে ক্যাশ ইনচার্জ কামরুল হোসেন (৪১) ও তার সহযোগী জাফরুল্লাহ তানভীর (২৫)-এর বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

বুধবার রাতে মামলা দায়েরের পর কামরুল হোসেন ও জাফরুল্লাহ তানভীরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হলে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

কোতোয়ালি থানার ওসি আবু জায়েদ মো. নাজমুন নুর যুগান্তরকে বলেন, অগ্রণী ব্যাংকের ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা গায়েবের ঘটনায় ব্যাংক ম্যানেজার মোস্তাক আহমেদ বাদী হয়ে মামলা করেছেন। ইতোমধ্যে দুই আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং আদালত তাদের কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার এজাহার ও ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, কামরুল হোসেন সংশ্লিষ্ট শাখার ক্যাশ ও ভল্টের দায়িত্বে ছিলেন। গত ৯ আগস্ট নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম ও লেনদেন শেষে নগদ অর্থ এবং ভল্টে সংরক্ষিত টাকার হিসাব মেলানোর সময় বড় ধরনের ঘাটতি ধরা পড়ে। কাগজপত্রে ভল্টে যে পরিমাণ টাকা থাকার কথা ছিল, বাস্তবে তা গণনা করে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা কম পাওয়া যায়।

এ সময় ক্যাশ ইনচার্জ কামরুল হোসেনের কাছে টাকার ঘাটতির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারেননি। পরে ভল্টের টাকা গণনা ও যাচাই করতে গিয়ে কারসাজির বিষয়টি সামনে আসে।

তদন্তে দেখা যায়, ভল্টে রাখা এক হাজার টাকার নোটের বান্ডিলের ভেতরে বেশিরভাগ নোটই ছিল ১০০ টাকার। ফলে বাইরে থেকে বান্ডিল দেখে এক হাজার টাকার নোট হিসেবে হিসাব মেলানো সম্ভব হলেও বাস্তবে প্রতিটি বান্ডিলে থাকা টাকার পরিমাণ ছিল অনেক কম। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ ধরনের কারসাজির তথ্য বেরিয়ে আসে।

ক্যাশ ইনচার্জ কামরুল হোসেন জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, ব্যাংক থেকে সরিয়ে নেওয়া ওই টাকা তার সহযোগী জাফরুল্লাহ তানভীরের মাধ্যমে একটি অ্যাগ্রোফার্মে বিনিয়োগ করেছেন। হাটহাজারীর উত্তর বুড়িশ্চর এলাকায় ‘ইশরাত অ্যাগ্রো’ নামে ওই গরুর খামারে বর্তমানে বিভিন্ন উন্নত জাতের ৫০ থেকে ৬০টি গরু রয়েছে।

সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ১ জুন থেকে ২০২৬ সালের ৯ আগস্ট পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ভল্টে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ঘাটতি তৈরি হয়েছে। একটি ব্যাংকের দৈনন্দিন লেনদেন শেষ হওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিন ক্যাশ ও ভল্টের হিসাব মেলানোর কথা। কিন্তু এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ঘাটতি তৈরি হলেও তা এতদিন ধরা পড়ল না কেন—এ প্রশ্নও সামনে এসেছে।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট শাখার ম্যানেজারসহ অন্য কর্মকর্তারা কোনোভাবে দায় এড়াতে পারবেন কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে। তবে ব্যাংকের ভল্ট থেকে টাকা সরানোর ঘটনায় আরও কেউ জড়িত থাকলে বা কারও দায় থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তা বেরিয়ে আসবে বলে সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে গ্রেফতার জাফরুল্লাহ তানভীরের বাবা আজিম উল্লাহ দাবি করেছেন, তার ছেলে এ ঘটনায় জড়িত নন। তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভল্ট থেকে টাকা গায়েবের ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইকবাল হোসেন। তিনি বলেন, মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাদের কাছ থেকে একটি আইফোনসহ দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তা আরও বলেন, আসামিরা কীভাবে ব্যাংকের টাকা সরিয়েছেন, কার কার সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ছিল এবং এই ঘটনার সঙ্গে আরও কারও দায় রয়েছে কি না—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে।

/এসএন