• ঢাকা
  • বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৫৬ এএম


১ হাজার টাকার বান্ডিলে মিলল ১০০ টাকার নোট, অগ্রণী ব্যাংকে থেকে উধাও ৪ কোটি ৩৮ লাখ

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৩ আগস্ট ২০২৬ ৩:২৫ পিএম

এক হাজার টাকার নোটের বান্ডিলের ভেতরে রাখা হতো ১০০ টাকা কিংবা তার চেয়েও কম মূল্যমানের নোট। বাইরে থেকে বান্ডিল অক্ষত মনে হলেও ভেতরে থাকত সামান্য অর্থ। এমন কৌশলে চট্টগ্রাম নগরের লালদীঘি পূর্ব করপোরেট শাখার অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির ক্যাশ ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গ্রাহকদের আমানতের এই বিপুল অর্থের ঘাটতি ধরা পড়ে ব্যাংকের হিসাব মেলানোর সময়।

এ ঘটনায় করা মামলায় ব্যাংকের ক্যাশ ইনচার্জসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ব্যাংকের সিনিয়র কর্মকর্তা ও ক্যাশ ইনচার্জ মো. কামরুল হোসেন (৪১) এবং মো. জাফরুল্লাহ তানভীর (২৫)। পরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গত ১০ আগস্ট অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি লালদীঘি পূর্ব করপোরেট শাখার মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মোস্তাক আহমেদ বাদী হয়ে নগরের কোতোয়ালী থানায় মামলাটি করেন। মামলায় কামরুল হোসেন ও জাফরুল্লাহ তানভীরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকেও আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ক্যাশ ও ভল্টের দায়িত্বে থাকা কামরুল হোসেন গত ৯ আগস্ট নিয়মিত ব্যাংকিং লেনদেন শেষ হওয়ার পর সমাপনী হিসাব মেলাতে যান। এ সময় ভল্টে সংরক্ষিত নগদ অর্থের হিসাব করতে গিয়ে বড় ধরনের গরমিল ধরা পড়ে। পরে সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র ও নথি যাচাই-বাছাই করে ভল্টে মোট ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ঘাটতি পাওয়া যায়।

ঘাটতির বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও ব্যাংকের কাছে ক্যাশ ইনচার্জ কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। ব্যাংকের অভিযোগ, মো. জাফরুল্লাহ তানভীরসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের সহায়তায় কামরুল হোসেন ভল্টের টাকা সরিয়ে ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন।

প্রতারণার অভিনব কৌশল

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ভল্টে টাকা সংরক্ষণের সময় একটি অভিনব পদ্ধতি ব্যবহার করা হতো। এক হাজার টাকার নোটের বান্ডিলের মধ্যে ১০০ টাকা কিংবা তার চেয়ে কম মূল্যমানের নোট ঢুকিয়ে বান্ডিল তৈরি করা হতো। ফলে বাইরে থেকে বান্ডিল দেখে সেটিকে স্বাভাবিক ও অক্ষত মনে হলেও ভেতরে প্রকৃত অর্থের পরিমাণ থাকত অনেক কম।

ভল্টে থাকা নগদ অর্থের হিসাব মেলানোর সময়ই এই ধরনের গরমিল ধরা পড়ে। এর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যাংক থেকে সরিয়ে নেওয়া ওই অর্থ দিয়ে জাফরুল্লাহ তানভীরের দেখভালে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর উত্তর বুড়িচ্ছড় এলাকায় ‘ইশরাত এগ্রো’ নামে একটি গরুর খামার গড়ে তোলা হয়েছে। বর্তমানে ওই খামারে বিভিন্ন জাতের ৫০ থেকে ৬০টি গরু রয়েছে বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন গ্রেপ্তার জাফরুল্লাহ তানভীরের বাবা আজিম উল্লাহ। তার দাবি, তার ছেলে ব্যাংকের কর্মকর্তা নন এবং ওই শাখার গ্রাহকও নন। তিনি আগে থেকেই গরুর খামারের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

আজিম উল্লাহ বলেন, ক্যাশ ইনচার্জ কামরুল হোসেন তার ছেলেকে মাঝে মাঝে লাভের ভিত্তিতে টাকা দিতেন এবং পরে লাভসহ সেই টাকা ফেরত নিতেন। তবে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা তার ছেলেকে দেওয়া হয়েছে—এমন কোনো ব্যাংক রেকর্ড বা প্রমাণ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

তার অভিযোগ, গত ৯ আগস্ট রাতে তার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে ব্যাংকে ডেকে নিয়ে আটকে রাখা হয়। পরে জোর করে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। খবর পেয়ে তারা রাতে পুলিশ নিয়ে ব্যাংকে গেলে পুলিশ দুজনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

এদিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইকবাল হোসেন বলেন, গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তিনি জানান, তদন্তের স্বার্থে আসামিদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন, হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের তথ্য এবং ৬৪ জিবি ধারণক্ষমতার একটি পেনড্রাইভ জব্দ করা হয়েছে। ঘটনাটি বর্তমানে নিবিড়ভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।

/এসএন