• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম


জ্বালানি সংকটে ৩০০ কোটি ডলার ঋণ খুঁজছে সরকার!

আপডেট টাইম: ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ৮:৩৭ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল, গ্যাস ও সারের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর প্রভাবে বাড়তি দামে এসব পণ্য আমদানিতে আগামী চার মাসে প্রায় ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার প্রয়োজন হবে। এই চাপ সামাল দিতে সমপরিমাণ ঋণ পাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

এ লক্ষ্যে ঋণ সহায়তার সম্ভাবনা যাচাই করতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ-কে চিঠি দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সামষ্টিক অর্থনীতি শাখা। চিঠির সঙ্গে একটি অবস্থানপত্রও পাঠানো হয়েছে, যেখানে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশের অর্থনীতিতে সৃষ্ট চাপের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।

অবস্থানপত্রে বলা হয়েছে, এই ঋণ তিনভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রথমত, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখা এবং জ্বালানি, সার ও খাদ্য আমদানি অব্যাহত রাখতে সহায়তা করবে। দ্বিতীয়ত, নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে সীমিত সময়ের জন্য সহায়তা প্রদান সম্ভব হবে। তৃতীয়ত, দেশে জ্বালানি তেল, গ্যাস ও সারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে।

অর্থ মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য চাপের মুখে পড়েছে। জরুরি চাহিদা পূরণ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই ঋণ সহায়তা প্রয়োজন।

এদিকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বর্তমানে ওয়াশিংটন ডিসি-তে অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-এর বসন্তকালীন সভায় অংশ নিচ্ছেন। সেখানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত ঋণ সহায়তা চাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হতে পারে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জরুরি ঋণের জন্য বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এবং এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়েছে। তবে অতীতের মতো নতুন ঋণ পেতে গেলে সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

অন্যদিকে, আইএমএফের মতো সংস্থাগুলো জ্বালানি খাতে সার্বজনীন ভর্তুকির বিরোধিতা করে থাকে। এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সম্ভাব্য ভর্তুকি হবে স্বল্পমেয়াদি ও লক্ষ্যভিত্তিক। একই সঙ্গে রাজস্ব বৃদ্ধির উদ্যোগও নেওয়া হবে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১৩ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার।

এ প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দেশই বাজেট সহায়তা চাইছে, তাই বাংলাদেশের উদ্যোগ অস্বাভাবিক নয়। তবে উন্নয়ন সহযোগীরা সরকারের নীতি পদক্ষেপ ও জ্বালানির মূল্য সমন্বয় বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইতে পারে বলে তিনি মনে করেন।