কানাডার আলবার্টা প্রদেশের প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কানাডায় পড়াশোনার জন্য দেওয়া শিক্ষার্থী ভিসা একটি সাময়িক অনুমতি। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কোনো শিক্ষার্থী স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা কানাডায় থাকার অন্য বৈধ মর্যাদা অর্জন করতে না পারলে তাকে নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে।
স্মিথের এই মন্তব্য এসেছে আলবার্টায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে চলমান অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে। বিশেষ করে পোর্টেজ কলেজের সাবেক শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ করার পর স্নাতকোত্তর কাজের অনুমতি না পাওয়ায় প্রতিবাদ করছেন। তাঁদের অনেকেই দাবি করছেন, কানাডায় পড়াশোনার সময় তাঁরা ভবিষ্যতে কাজ করার সুযোগ পাবেন বলে প্রত্যাশা করেছিলেন।
১২ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে স্মিথ বলেন, শিক্ষার্থী ভিসা কানাডায় পড়াশোনার জন্য দেওয়া একটি সাময়িক নথি। আলবার্টার কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মূলত প্রদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ থাকলে তার শর্তও স্পষ্ট—শিক্ষা শেষ করা এবং এরপর সেই শিক্ষা কাজে লাগিয়ে নিজ দেশে জীবন গড়ে তোলা।
এর আগে ২৯ জুলাই রেড ডিয়ারে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনেও স্মিথ একই ধরনের অবস্থান তুলে ধরেছিলেন। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, কেউ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে কানাডায় এসে শিক্ষার্থী ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যদি স্থায়ী বসবাসের অনুমতি না পান, তাহলে তাকে দেশে ফিরে যেতে হবে।
স্মিথের বক্তব্যের সঙ্গে বর্তমানে আলবার্টায় আলোচিত পোর্টেজ কলেজের শিক্ষার্থীদের পরিস্থিতির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। কলেজটির কিছু সাবেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী স্নাতক হওয়ার পর স্নাতকোত্তর কাজের অনুমতির আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার প্রতিবাদ করছেন। তাঁদের একটি অংশের অভিযোগ, পড়াশোনায় ভর্তি হওয়ার সময় তাঁরা যে তথ্য পেয়েছিলেন, পরে অভিবাসন-সংক্রান্ত বাস্তবতার সঙ্গে সেটির মিল পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পোর্টেজ কলেজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ব্যবসা ব্যবস্থাপনা কর্মসূচিতে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের একটি অংশ প্রায় দুই বছর ধরে পড়াশোনা করে এবং প্রায় ৩২ হাজার কানাডীয় ডলার পর্যন্ত টিউশন ফি দেওয়ার পর জানতে পারেন যে তাঁদের কর্মসূচি স্নাতকোত্তর কাজের অনুমতির জন্য যোগ্য নয়। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে এবং কয়েকজন অনশন কর্মসূচিও পালন করেছেন।
/এএসএফ