উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যবর্তী সীমান্তে আবারও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সামরিক সীমারেখা (এমডিএল) অতিক্রম করে উত্তর কোরিয়ার কয়েকজন সেনা দক্ষিণ কোরিয়ার ভূখণ্ডে ঢুকে পড়লে তাদের সতর্ক করতে গুলি ছোড়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী। দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তাসংস্থা ইয়োনহাপ জানিয়েছে, চলতি বছরে এটাই উত্তর কোরিয়ার সেনাদের সামরিক সীমারেখা লঙ্ঘনের প্রথম ঘটনা।
টিআরটি ওয়ার্ল্ডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে ডিমিলিটারাইজড জোনের (ডিএমজেড) পূর্বাঞ্চলে এই ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে রোববার (১৬ আগস্ট)।
ইয়োনহাপের প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর কোরিয়ার একাধিক সেনা সামরিক সীমারেখা অতিক্রম করে দক্ষিণ কোরিয়ার অংশে প্রবেশ করেন। ধারণা করা হচ্ছে, ওই সময় তারা নিয়মিত টহল কার্যক্রম চালাচ্ছিলেন।
উত্তর কোরিয়ার সেনাদের সীমারেখা অতিক্রমের বিষয়টি নজরে আসার পর দক্ষিণ কোরিয়ার সেনারা তাদের সতর্ক করতে গুলি ছোড়েন। এরপর উত্তর কোরিয়ার সেনারা দ্রুত উত্তর দিকে ফিরে যান। পরে ওই এলাকায় আর কোনো অস্বাভাবিক তৎপরতার খবর পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি নিয়ে উত্তর কোরিয়ার বক্তব্য জানতে সিঙ্গাপুরে অবস্থিত দেশটির দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
ইয়োনহাপের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর উত্তর কোরিয়ার সেনারা মোট ১৭ বার সামরিক সীমারেখা লঙ্ঘন করেছিলেন। চলতি বছরের প্রথম এমন ঘটনায় দুই কোরিয়ার সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার কয়েক হাজার সেনার অংশগ্রহণে নিয়মিত যৌথ সামরিক মহড়া শুরু হতে যাচ্ছে। আগামীকাল সোমবার থেকে শুরু হয়ে ১১ দিনব্যাপী এই মহড়া চলবে।
প্রতি গ্রীষ্মে আয়োজিত এই যৌথ সামরিক মহড়ার মূল লক্ষ্য হলো উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করা। তবে পিয়ংইয়ং বরাবরের মতো এবারও এই মহড়ার তীব্র বিরোধিতা করেছে।
উত্তর কোরিয়া সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের সামরিক তৎপরতার জবাবে আরও শক্তিশালী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত চলা কোরীয় যুদ্ধ কোনো শান্তিচুক্তির মাধ্যমে শেষ হয়নি। যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সেই সংঘাত থেমে যাওয়ায় উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে।
/এসএন