মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার সোনারং ইউনিয়নের দক্ষিণ বেতকা এলাকার পশ্চিম সোনারং গ্রামের প্রবাসী যুবক নয়ন ফকির (২৫) ইতালিতে বড় ভাইয়ের হাতে নিহত হওয়ার প্রায় তিন মাস পর তার মরদেহ দেশে পৌঁছেছে।
বুধবার (২২ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার বেতকা নতুন বাজার এলাকার কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়।
এর আগে একই দিন সকাল ৮টায় নিহতের মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। পরে দুপুর ১টার দিকে মরদেহটি নিজ এলাকায় নেওয়া হয়।
এদিকে, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের বড় ভাইকে গ্রেপ্তার করে ইতালির পুলিশ কারাগারে পাঠিয়েছে। একদিকে এক ছেলের মৃত্যু, অন্যদিকে আরেক ছেলে কারাগারে থাকায় বাড়িতে থাকা বৃদ্ধ বাবা-মা কার্যত অসহায় হয়ে পড়েছেন।
নিহতের ফুফাতো ভাই সাব্বির হোসেন জানান, বিকেল ৩টার দিকে নয়নের দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, অভিযুক্ত বড় ভাই হুমায়ূন ইতালির কারাগারে রয়েছেন এবং ভাইকে হত্যার ঘটনায় এখনো অনুতপ্ত নন। সাব্বিরের ভাষ্য অনুযায়ী, হুমায়ূন ফোন করে নিহতের মরদেহ দেখতে চেয়েছিলেন, তবে তাকে সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি। বর্তমানে ইতালিতে তার বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম চলছে।
উল্লেখ্য, গত ২৯ এপ্রিল ইতালির লেইজ শহরে পারিবারিক ও আর্থিক বিরোধের জেরে বড় ভাই হুমায়ুন ফকির (৩০) তার ছোট ভাই নয়ন ফকিরকে হত্যা করেন। হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত হুমায়ুন ফকির ভিডিও কলে পরিবারের সদস্যদের কাছে হত্যার দায় স্বীকার করেন।
তারা টঙ্গীবাড়ী উপজেলার পশ্চিম সোনারং গ্রামের বাসিন্দা। হুমায়ুন দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে ইতালিতে বসবাস করছিলেন। অন্যদিকে নয়ন চার বছর ইতালি প্রবাসী থাকার পর হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।
ঘটনার খবর পেয়ে ইতালির স্থানীয় পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত হুমায়ুন শেখকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে তিনি ইতালির একটি কারাগারে বন্দী রয়েছেন।
/এসএন