২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র ঘরের মাঠে দারুণ লড়াই করে রাউন্ড অব ৩২ থেকে শেষ ১৬-তে জায়গা করে নিয়েছে। বুধবার (১ জুলাই) বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে ২-১ গোলে হারিয়ে নকআউট পর্বের পরবর্তী ধাপে উঠেছে মার্কিনরা। তবে ম্যাচের জয়ের চেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনকে দেখানো লাল কার্ড এবং তা ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক।
দ্বিতীয়ার্ধে বসনিয়ার তারিক মুহারেমিভিচের ডান গোড়ালিতে বালোগুনের বুটের স্টাড লাগার ঘটনায় শুরুতে কোনো কার্ড দেখাননি ম্যাচের রেফারি রাফায়েল ক্লাউস। পরে ভিএআরের পরামর্শে অন-ফিল্ড রিভিউ দেখে সরাসরি লাল কার্ড প্রদর্শন করেন তিনি।
এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান কোচ মরিসিও পচেত্তিনো। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘এটি কোনোভাবেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল না। এটা কখনোই লাল কার্ড হতে পারে না। প্রতিপক্ষকে আঘাত করার উদ্দেশ্য থাকলে বিষয়টি ভিন্ন ছিল। কিন্তু এখানে বল দখলের লড়াইয়ে পা নামানোর স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া ছিল।’
লাল কার্ডের কারণে আগামী সোমবার (৬ জুলাই) বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ ১৬-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খেলতে পারবেন না বালোগুন। বিশ্বকাপের নিয়ম অনুযায়ী, এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগও নেই যুক্তরাষ্ট্রের।
মেসির ঘটনার সঙ্গে তুলনা
বালোগুনের লাল কার্ডের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। অনেক ফুটবল সমর্থক চলতি বিশ্বকাপেই আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির একটি ট্যাকলের উদাহরণ টেনে ফিফার রেফারিংয়ের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
সেই ম্যাচে ঈসা মান্দির কাছ থেকে বল কেড়ে নিতে গিয়ে মেসির বুট সরাসরি প্রতিপক্ষের পায়ের পেছনের অংশে আঘাত করলেও পোলিশ রেফারি সাইমন মার্চিনিয়াক শুধু ফাউলের বাঁশি বাজান। কোনো কার্ড দেখানো হয়নি এবং ভিএআর থেকেও অন-ফিল্ড রিভিউয়ের পরামর্শ দেওয়া হয়নি।
এবার বালোগুনকে একই ধরনের ঘটনার জন্য সরাসরি লাল কার্ড দেখানোয় অনেকেই ফিফার রেফারিংয়ে দ্বৈত মানদণ্ডের অভিযোগ তুলেছেন।
তবে মাঠের ভেতরে বিতর্কের প্রভাব পড়তে দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। ১০ জন নিয়ে দীর্ঘ সময় খেলেও ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিকের নেতৃত্বে লড়াকু পারফরম্যান্সে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে শেষ ১৬-তে জায়গা করে নিয়েছে পচেত্তিনোর দল। এখন কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লক্ষ্যে বেলজিয়ামের বিপক্ষে প্রস্তুতি নিচ্ছে স্বাগতিকরা।
সূত্র: ফিফা
/এএসএফ