• ঢাকা
  • সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১২:০২ এএম


ইথানল বিতর্কে উত্তপ্ত ভারত, মোদির বাসভবন ঘেরাওয়ের ঘোষণা কেজরিওয়ালের!

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২ আগস্ট ২০২৬ ১০:৫০ পিএম

দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির (এএপি) জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল ইথানল মেশানো জ্বালানির বিরুদ্ধে আন্দোলন আরও জোরদারের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, আগামী ৪ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনে গিয়ে দুই লাখের বেশি মানুষের স্বাক্ষরসংবলিত আবেদনপত্র জমা দেবেন। এ উপলক্ষে দিল্লিতে একটি মিছিলও অনুষ্ঠিত হবে।

শনিবার (১ আগস্ট) জাতীয় গণশুনানিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে কেজরিওয়াল এ ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, ৪ আগস্ট দুপুরে নিজেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনে আবেদনপত্র পৌঁছে দেবেন। তার সঙ্গে এমন একশ জন থাকবেন, যারা গ্রেপ্তার বা লাঠিচার্জের আশঙ্কা উপেক্ষা করে আন্দোলনে অংশ নিতে প্রস্তুত।

কেজরিওয়ালের দাবি, ইথানল মেশানো জ্বালানি নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ দ্রুত বাড়ছে। তিনি বলেন, সরকার যদি নিশ্চিত থাকে যে এই জ্বালানি সম্পূর্ণ নিরাপদ, তাহলে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে প্রকাশ্য বিতর্কের আয়োজন করা উচিত, যেখানে সরকার ও বিরোধী পক্ষ নিজেদের তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারবে। তার অভিযোগ, সরকার এ ধরনের আলোচনা এড়িয়ে যাচ্ছে।

তবে কেজরিওয়ালের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দিল্লি বিজেপির সভাপতি হর্ষ মালহোত্রা বলেন, ইথানল মেশানো জ্বালানির কারণে গাড়ির ইঞ্জিন নষ্ট হয়েছে বা বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে—এমন অন্তত ১০০টি ঘটনার প্রমাণ কেজরিওয়ালকে দেখাতে হবে। শুধু অভিযোগ করলেই হবে না।

ভারতে ধাপে ধাপে পেট্রোলে ইথানলের পরিমাণ বাড়ানোর সরকারি নীতি নিয়ে কয়েক মাস ধরে বিতর্ক চলছে। সমালোচকদের দাবি, এতে অনেক গাড়ির জ্বালানি খরচ বেড়ে যাচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদে ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় সরকার বরাবরই দাবি করে আসছে, এই নীতি পরিবেশবান্ধব এবং বিদেশি জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়ক।

কেজরিওয়াল আরও অভিযোগ করেন, পরিবেশগত যুক্তির পাশাপাশি অন্য স্বার্থও এই নীতির পেছনে কাজ করছে। তার দাবি, ইথানল ব্যবসার সঙ্গে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহনমন্ত্রী নীতিন গড়করির দুই ছেলের সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এছাড়া ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য বাণিজ্যিক সমঝোতার কারণেও সরকার দ্রুত এই নীতি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

আন্দোলনের অংশ হিসেবে কেজরিওয়াল তিনটি দাবি তুলে ধরেছেন। প্রথমত, দেশের প্রতিটি পেট্রোলপাম্পে সাধারণ পেট্রোল ও ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি—দুই ধরনের জ্বালানিই রাখতে হবে, যাতে গ্রাহক নিজের পছন্দ অনুযায়ী জ্বালানি কিনতে পারেন। দ্বিতীয়ত, পেট্রোলের দাম কমাতে হবে। তৃতীয়ত, ইথানলের দামও কমাতে হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইথানল ইস্যু এখন শুধু জ্বালানি নীতির বিতর্কে সীমাবদ্ধ নেই; এটি মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক নীতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক আলোচনার অংশ হয়ে উঠেছে। বিরোধী দলগুলো এ ইস্যুকে কেন্দ্র করে সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।

এদিকে ৪ আগস্টের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। অতীতেও প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন অভিমুখে কর্মসূচি ঘিরে পুলিশি বাধা ও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে। এবারও একই ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

/এএসএফ