• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৫:১০ এএম


এক মুহূর্তে শেষ বিশ্বকাপ স্বপ্ন, ইনজুরিতে হারিয়ে যাওয়া তারকারা

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৭ জুন ২০২৬ ১১:৫০ পিএম

বিশ্বকাপ ফুটবল একজন খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় স্বপ্নগুলোর একটি। কিন্তু অনেক ফুটবলারের জন্য সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেওয়ার আগেই শেষ হয়ে যায় ইনজুরির কারণে। কারও কাছে এটি ছিল প্রথম বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ, কারও কাছে শেষ সুযোগ, আবার কারও পুরো ক্যারিয়ারই কেটে গেছে বিশ্বকাপের মঞ্চে নামার আকাঙ্ক্ষা অপূর্ণ রেখে।

২০১৪ বিশ্বকাপের আগে জার্মান তারকা মার্কো রয়েস ছিলেন দুর্দান্ত ফর্মে। বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের হয়ে ২৩ গোল করে জাতীয় দলে নিজের জায়গা প্রায় নিশ্চিত করেছিলেন তিনি। কিন্তু বিশ্বকাপের ঠিক আগে আর্মেনিয়ার বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচে সাধারণ একটি ট্যাকলে বাঁ পায়ের গোড়ালিতে গুরুতর লিগামেন্ট ইনজুরিতে পড়েন রয়েস। সেই চোটই শেষ করে দেয় তার বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন।

পরে সেই অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে রয়েস বলেন, “আমি কিছুটা ম্যাচ দেখেছিলাম। শেষ পর্যন্ত আপনি একজন সমর্থকে পরিণত হন। এক চোখে কান্না, আরেক চোখে আনন্দ, কারণ দল ভালো খেলছিল।”

বিশ্বকাপ ফাইনালে জার্মানির খেলা দেখতে তাকে দলের পক্ষ থেকে রিও ডি জেনেইরো যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেননি। পরে সতীর্থ মারিও গোটজে শিরোপা জয়ের পর রয়েসের নাম লেখা জার্সি নিয়ে উদযাপন করেন। বিষয়টি জানতে পেরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন জার্মান এই তারকা।

তবে রয়েস একা নন। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন বহু তারকা আছেন, যাদের বিশ্বকাপ স্বপ্ন ইনজুরির কাছে হার মেনেছে।

ইতালির কিংবদন্তি স্ট্রাইকার ক্রিশ্চিয়ান ভিয়েরি ২০০৬ বিশ্বকাপের আগে হাঁটুর চোটে পড়ে দল থেকে ছিটকে যান। পরে তিনি বলেন, “আমি আমার জীবনের স্বপ্ন হারিয়েছিলাম। কিন্তু অন্তরে আমি দলের সাফল্যে আনন্দ পেয়েছি।”

ব্রাজিলের অধিনায়ক এমারসনও ২০০২ বিশ্বকাপের আগে কাঁধের ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়ে পুরো আসর মিস করেন। একইভাবে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের আগে শেষ মুহূর্তে পেশির চোটে ছিটকে যান ফ্রান্সের তারকা স্ট্রাইকার করিম বেঞ্জেমা।

ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি মিডফিল্ডার স্টিভেন জেরার্ড ২০০২ বিশ্বকাপের আগে ইনজুরির কারণে মাঠের বাইরে থাকতে বাধ্য হন। পরে তিনি লেখেন, বিশ্বকাপ মিস করার বেদনা তাকে দীর্ঘদিন তাড়িয়ে বেড়িয়েছে।

ফ্রান্সের রবার্ট পিরেসও ২০০২ বিশ্বকাপের আগে এসিএল ইনজুরিতে পড়ে পুরো টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যান। আবার ২০১০ বিশ্বকাপের আগে অসুস্থতার কারণে ফ্রান্স দলে জায়গা হারান লাসানা দিয়ারা।

নেদারল্যান্ডসের রাফায়েল ভ্যান ডার ভার্ট এবং পরবর্তীতে কোচ হিসেবে কিংবদন্তিতে পরিণত হওয়া স্পেনের পেপ গার্দিওলাও ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপ মিস করেছেন।

বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়া শুধু মাঠের লড়াই হারানোর বিষয় নয়, এটি মানসিকভাবেও বড় আঘাত হয়ে আসে। ২০০৬ বিশ্বকাপের আগে ইনজুরিতে বাদ পড়া মার্কিন ডিফেন্ডার কোরি গিবস বলেন, “আমি বিশ্বাসই করতে পারিনি যে আমি বিশ্বকাপ মিস করছি। এটা ছিল ভীষণ হতাশার। এটা একজন খেলোয়াড়ের স্বপ্ন।”

কখনও কখনও ইনজুরি ঘিরে নির্বাচন প্রক্রিয়াও বিতর্কের জন্ম দেয়। ১৯৯৮ বিশ্বকাপের সময় ইতালির আলেসান্দ্রো দেল পিয়েরো এবং ব্রাজিলের রোমারিওকে ঘিরেও এমন বিতর্ক দেখা গিয়েছিল।

জার্মানির সাবেক অধিনায়ক মাইকেল বালাক ২০১০ বিশ্বকাপের আগে ইনজুরিতে পড়ে বাদ পড়েন। অথচ তার অনুপস্থিতিতেই তরুণ দল নিয়ে জার্মানি সেমিফাইনালে পৌঁছে যায়।

এই ঘটনাগুলো একটি বাস্তবতাই সামনে আনে—বিশ্বকাপ শুধু মাঠের লড়াই নয়, এটি ভাগ্যেরও খেলা। একজন ফুটবলার যে মুহূর্তের জন্য সারা জীবন অপেক্ষা করেন, সেটি কখনও কখনও এক সেকেন্ডেই হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে।

তবুও এসব গল্পের মধ্যে আশার আলোও রয়েছে। মার্কো রয়েসের অভিজ্ঞতা অনেকের কাছেই সেই বার্তা বহন করে—ইনজুরি হয়তো একটি স্বপ্ন থামিয়ে দিতে পারে, কিন্তু ভবিষ্যতের লড়াই থামিয়ে দিতে পারে না।