• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৪ পিএম


‘আমি কোনো অন্যায় করিনি’, দেশে ফিরতে নিরাপত্তা চাইলেন সাকিব আল হাসান

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৭ আগস্ট ২০২৬ ৮:৫০ পিএম

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সভাপতির নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার পর আবারও আলোচনায় আসা বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান জানিয়েছেন, সরকার যদি তার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয়, তাহলে দীর্ঘদিনের বিদেশজীবনের অবসান ঘটিয়ে দেশে ফিরতে চান তিনি। একই সঙ্গে হত্যা মামলাসহ তার বিরুদ্ধে থাকা সব অভিযোগের আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতেও প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন এই অলরাউন্ডার।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব দাবি করেন, তিনি কোনো ধরনের অন্যায় করেননি। তাই দেশে ফিরে আদালতের মাধ্যমে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে চান।

বর্তমানে শ্রীলঙ্কার একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট টুর্নামেন্টে খেলছেন সাকিব। টেলিফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে এখনো অবসর নেননি। দেশে ফিরে জাতীয় দলের হয়ে একটি বিদায়ী সিরিজ খেলতে চান এবং ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপেও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার লক্ষ্য রয়েছে তার।

সাকিব আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করছেন এবং এরপর আর বাংলাদেশে ফেরেননি।

রয়টার্সকে তিনি বলেন, ‘সরকার যদি আমাকে জানায় যে আমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে, তাহলে আমি আনন্দের সঙ্গেই দেশে ফিরব, আদালতের বিচারসহ যা যা প্রয়োজন, সবকিছুরই মুখোমুখি হব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি জানি, আমি কোনো অন্যায় করিনি।’

সম্প্রতি শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে তিনি দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন। নির্বাসনে থাকা আওয়ামী লীগ নেতাদেরও দেশে ফিরে আদালতের মুখোমুখি হওয়ার কথা বলেছেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে সাকিব জানান, তিনি যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরতে চান। তবে তা সম্ভব না হলে শেখ হাসিনার সঙ্গেই দেশে ফেরার চেষ্টা করবেন।

তার ভাষায়, ‘ক্যাপ্টেন যা বলেন, আমরা সেটাই অনুসরণ করি। আমার মনে হয়, তারাই ভালো সিদ্ধান্ত নেবেন, আর আমরা তাদের নির্দেশনা অনুসরণ করব।’

গত বুধবার দিল্লিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন সাকিব। এরপরই বাংলাদেশে তার মাগুরার বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ওই সংবাদ সম্মেলনে তিনি কেবল ‘শান্তি এবং বাংলাদেশের উন্নতির কথা’ বলেছেন এবং এজন্য তার কোনো অনুশোচনা নেই।

সাকিব জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তার আইনজীবীর মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র, আইন ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং পুলিশের কাছে তার ভাষায় ‘বানোয়াট’ মামলাগুলো প্রত্যাহারের আবেদন জানানো হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও জানান, দেশে ফেরার বিষয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও আলোচনা করতে চান। তবে এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে রয়টার্স প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

৩৯ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার বলেন, অবসরের সিদ্ধান্ত নিতে তিনি আর বেশি সময় অপেক্ষা করতে চান না।

রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি বেশির ভাগ ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলছি। ভালো লাগছে, খেলাটা উপভোগ করছি, ভালো খেলছিও। কিন্তু বয়স এখন আর আমার পক্ষে নেই। তাই খুব বেশি অপেক্ষা করতে পারব না।’

সাকিব জানান, ২০২৪ সালের শেষ দিকে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার আশ্বাস পাওয়ার পর তিনি একবার দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে বিমানে উঠেছিলেন। বিমানবন্দরের লাউঞ্জ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দেশে ফেরার বিষয়টি নিশ্চিতও করেছিলেন। কিন্তু যাত্রাপথে তাকে ফিরে যেতে বলা হয়। পরে দুবাইয়ে নেমে তিনি আবার নিউইয়র্কে ফিরে যান।

সেই ঘটনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘১২ ঘণ্টার মধ্যে কী বদলে গেল, আমি জানি না।’

তার দাবি, প্রায় ৫৭ দিনের প্রস্তুতির পরও শেষ মুহূর্তে তার দেশে ফেরা আটকে যায়।

তিনি আরও জানান, পরে শেখ হাসিনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার পর আরেকবার দেশে ফেরার পরিকল্পনাও বাধাগ্রস্ত হয়। তার ভাষায়, ‘আমি বুঝতে পারি না, বাংলাদেশে আমাকে ঢুকতে না দেওয়ার মানদণ্ড কীভাবে এটা হতে পারে।’

সাবেক এই সংসদ সদস্য জানান, আওয়ামী লীগ বা শেখ হাসিনার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলে দেশে ফেরা সহজ হবে—এমন পরামর্শও তিনি পেয়েছিলেন। তবে এ বিষয়ে তার অবস্থান স্পষ্ট। তিনি বলেন, ‘এটা বিবেচনা করার প্রশ্নই আসে না।’

বর্তমানে তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা চলমান রয়েছে বলে জানান সাকিব। এর মধ্যে একটি ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় এক বিক্ষোভকারীকে হত্যার অভিযোগে এবং অন্যটি দুর্নীতির অভিযোগে।

হত্যা মামলার বিষয়ে তিনি দাবি করেন, যেদিন মামলার ঘটনা বলা হয়েছে, সেদিন তিনি কানাডার টরন্টোতে একটি ম্যাচ খেলছিলেন। তার ভাষায়, ‘এটা হাস্যকর একটা মামলা।’

এ ছাড়া তদন্তের কারণে গত দেড় বছর ধরে তার ব্যাংক হিসাব জব্দ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। যদিও কোন ব্যাংকে কত অর্থ জব্দ রয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি।

তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি গত ১০ বছর দেশের সবচেয়ে বেশি কর দেওয়া খেলোয়াড়দের একজন, যে সব কর পরিশোধ করেছে, তার অ্যাকাউন্ট যদি দেড় বছর ধরে তদন্তের নামে জব্দ রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সব তথ্য আমি দেব। কিন্তু তদন্ত করে কিছু না পেলে তো ছেড়ে দেওয়া উচিত।’

সাকিব আরও জানান, গত দুই বছর ধরে তিনি তার বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। তার দাবি, বাবা-মাকে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে যেতে দেওয়া হয়নি।

তার ভাষায়, ‘আমাদের সবার জন্য সময়টা কঠিন ছিল, কিন্তু আমরা টিকে আছি।’

/এসএন