বিশ্বকাপের মতো বড় শিরোপা জয়ের পরও নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারেননি স্পেন ও বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। জাতীয় দলের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রে নিজের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে মনে করেন ১৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে দুর্দান্ত একটি মৌসুম কাটিয়েছেন ইয়ামাল।
গত মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে ২৪ গোল করার পাশাপাশি ১৮টি অ্যাসিস্টও করেছেন তিনি। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ওপর ভর করে কাতালান ক্লাবটি জিতেছে লা লিগা ও স্প্যানিশ সুপার কাপ।এরপর স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপের শিরোপাও জিতেছেন ইয়ামাল। তবে ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে সেখানে খুব একটা সন্তুষ্ট হওয়ার মতো কিছু দেখছেন না তিনি। বিশ্বকাপে আট ম্যাচ খেলে মাত্র একটি গোল করেছেন ইয়ামাল, কোনো অ্যাসিস্টও ছিল না।
দল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলেও নিজের প্রত্যাশার তুলনায় পারফরম্যান্স কম হওয়াটাই তাকে আক্ষেপে রেখেছে।বিশ্বকাপে নিজের প্রত্যাশামতো খেলতে না পারার জন্য অবশ্য চোটকে দায়ী করতে চান না ইয়ামাল। তার মতে, চোট না থাকলেও হয়তো পারফরম্যান্সের ধরন একই রকম হতে পারত। এমনকি আবারও বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেলেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারত বলে মনে করেন তিনি।বিশ্বকাপ জয়ের পর নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে ইয়ামাল স্বীকার করেছেন, শিরোপা জিতেও তিনি পুরোপুরি খুশি হতে পারেননি। চোটের বিষয়টি সত্য হলেও সেটিকে নিজের হতাশার মূল কারণ হিসেবে দেখছেন না এই তরুণ ফরোয়ার্ড।তবে ইয়ামালের দাবি, মাঠে তার এমন বেশ কিছু অবদান ছিল, যা গোল কিংবা অ্যাসিস্টের পরিসংখ্যানে উঠে আসে না। প্রতিপক্ষের একাধিক ডিফেন্ডারকে নিজের দিকে টেনে নিয়ে সতীর্থদের জন্য জায়গা তৈরি করার বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন তিনি।ইয়ামালের মতে, কোনো খেলোয়াড়কে আটকাতে প্রতিপক্ষকে একসঙ্গে একাধিক ডিফেন্ডার ব্যবহার করতে হলে সেটিও তার দলের জন্য বড় সুবিধা। একজন কোচের দৃষ্টিতে এমন খেলোয়াড় বড় সম্পদ বলেও মনে করেন তিনি।নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে এখনও উন্নতির যথেষ্ট সুযোগ দেখছেন ইয়ামাল। তার মতে, অন্য কোনো খেলোয়াড় যদি একই ধরনের পারফরম্যান্স করতেন, তাহলে হয়তো সেটিকে দারুণ একটি বিশ্বকাপ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। কিন্তু নিজের সামর্থ্য সম্পর্কে তিনি জানেন বলেই মনে করেন, তার কাছ থেকে আরও বেশি কিছু প্রত্যাশা করা স্বাভাবিক।মাত্র ১৯ বছর বয়সেই ইয়ামালের ট্রফি ক্যাবিনেটে যোগ হয়েছে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ, বিশ্বকাপ, তিনটি লা লিগা, দুটি স্প্যানিশ সুপার কাপ এবং একটি কোপা দেল রে। এত অল্প বয়সে এত সাফল্য পাওয়ার পরও এখানেই থামতে চান না বার্সেলোনার এই তরুণ তারকা।ফুটবল ইতিহাসের কিংবদন্তিদের উদাহরণ টেনে ইয়ামাল উল্লেখ করেছেন লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, দিয়েগো ম্যারাডোনা ও পেলের নাম। তাদের মতো ফুটবল ইতিহাসে নিজের নাম স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে তাকে এখনও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে বলে মনে করেন তিনি।ইয়ামালের মতে, এরই মধ্যে এতগুলো শিরোপা জেতায় কেউ কেউ হয়তো মনে করতে পারেন যে এবার তিনি কিছুটা ধীর হয়ে যাবেন। কিন্তু তার লক্ষ্য আরও বড়। ফুটবল ইতিহাসে নিজের জন্য একটি স্থায়ী জায়গা তৈরি করতে এখনও অসংখ্য অর্জন বাকি রয়েছে—এমন বিশ্বাস নিয়েই সামনে এগিয়ে যেতে চান বার্সেলোনার এই তরুণ ফরোয়ার্ড।
/বিএসএস