• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০১ এএম


এক টাকার বিনিময়ে ৫২ বছর পড়ানো ‘এক টাকার মাস্টার’ পেলেন সম্মাননা

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৫ অক্টোবর ২০২৬ ১১:১২ পিএম

গাইবান্ধার প্রত্যন্ত এলাকায় ঘুরে ঘুরে দরিদ্র পরিবারের শিশুদের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছেন লুৎফুর রহমান। অর্থের অভাবে যেন কোনো শিশু পড়াশোনা থেকে ঝরে না পড়ে—দীর্ঘদিন ধরে এই লক্ষ্যেই কাজ করে আসছেন তিনি। আর এই শিক্ষাসেবার বিনিময়ে তিনি নেন মাত্র এক টাকা। এ কারণেই স্থানীয়ভাবে তিনি ‘এক টাকার মাস্টার’ নামে পরিচিতি পেয়েছেন।

দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে মাত্র এক টাকার বিনিময়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পড়িয়ে আসা এই শিক্ষাব্রতী এবার বিশেষ সম্মাননা পেয়েছেন। বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে দেশের ১০২ জন গুণী শিক্ষকের সঙ্গে তাঁকেও সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি অবসরভাতা থেকে তাঁকে অবসরভাতা দেওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে লুৎফুর রহমানের হাতে সম্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সম্মাননাপ্রাপ্ত প্রত্যেক শিক্ষককে ২ লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়।

লুৎফুর রহমান গাইবান্ধা সদর উপজেলার গিদারী ইউনিয়নের বাগুড়িয়া গ্রামের পাশে অবস্থিত ব্রহ্মপুত্র নদীর একটি বাঁধ এলাকার বাসিন্দা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৪ সাল থেকে লুৎফুর রহমান ওই এলাকার নদীতীরবর্তী সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পড়িয়ে আসছেন। অর্থের অভাবে যারা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ থেকে পিছিয়ে থাকে, তাদের কাছে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়াই ছিল তাঁর দীর্ঘদিনের কাজ। এর বিনিময়ে তিনি অভিভাবকদের কাছ থেকে প্রতিদিন মাত্র এক টাকা নেন।

নিজ উদ্যোগে গড়ে তোলা এই শিক্ষাসেবা সময়ের সঙ্গে তাঁকে গাইবান্ধায় ‘এক টাকার শিক্ষক’ হিসেবে পরিচিত করে তোলে। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন না করেও দীর্ঘ সময় ধরে তিনি শিক্ষাদানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

তাঁর কাছে পড়াশোনা করেছে বহু প্রজন্মের শিক্ষার্থী। মাত্র এক টাকার বিনিময়ে শিশুদের পড়ানোর এই উদ্যোগ সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার সুযোগ তৈরির একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে লুৎফুর রহমানের দীর্ঘদিনের শিক্ষাসেবাকে বিশেষ ক্যাটাগরিতে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সরকারি অবসরভাতা থেকে তাঁকে অবসরভাতা দেওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

এবারের সম্মাননাপ্রাপ্ত মোট ১০২ জন শিক্ষকের তালিকায় প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজ, মাদরাসা, কারিগরি, বিশ্ববিদ্যালয়, চিকিৎসা, কৃষি ও প্রকৌশল শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত শিক্ষকরা ছিলেন। এর পাশাপাশি বিশেষভাবে অবদান রাখা শিক্ষাব্রতীদেরও তালিকায় রাখা হয়।

অনুষ্ঠানে লুৎফুর রহমান ছাড়াও ‘রমনী কান্ত পাঠশালা’র রমনী কান্ত বেপারী এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষায় কাজ করা প্রয়াস ইনস্টিটিউট অব স্পেশাল এডুকেশনের সহকারী শিক্ষক মো. মোজাম্মেল হোসেন খানকে বিশেষ ক্যাটাগরিতে সম্মাননা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়া, শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

/এসএন