• ঢাকা
  • সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৭ পিএম


গ্রে’প্তার করলেও আন্দোলন থামবে না, হুঁ’শিয়ারি ককরোচ পার্টির

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৫ অক্টোবর ২০২৬ ১০:২৮ পিএম

ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) শীর্ষ নেতারা গ্রেপ্তারের আশঙ্কা করছেন। তাদের ধারণা, আগামী ১০ অক্টোবরের যন্তর মন্তর অভিযান শুরুর আগেই তাদের আটক করা হতে পারে। তবে কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকার এমন কোনো পদক্ষেপ নিলে তা বড় ধরনের ভুল হবে বলে সতর্ক করেছেন দলটির নেতারা। তাদের দাবি, দেশের যুবসমাজ এখন জেগে উঠেছে।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ এবং এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লিতে ‘যন্তর মন্তর ২.০’ অভিযানের ডাক দিয়েছে সিজেপি। মুম্বাইয়ের সমাবেশ সফল হওয়ার পরদিনই এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। রোববার গভীর রাতে সিজেপি নেতা সৌরভ দাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে গ্রেপ্তারের আশঙ্কার কথা জানান।

সৌরভ দাস বলেন, সরকার তাকে, অভিজিৎ দিপকে, আশুতোষ রাঙ্কা, রত্না সিংসহ অন্যদের গ্রেপ্তারের পরিকল্পনা করছে। তাঁর ভাষ্য, সরকার যদি মনে করে এ ধরনের স্বৈরাচারী পদক্ষেপ কাজে দেবে, তাহলে তারা ভুল করছে। যুবসমাজ জেগে উঠেছে এবং তারা এই ভুল মেনে নেবে না।

তিনি আরও বলেন, নিজেদের অধিকার ও ভবিষ্যতের জন্য সবাইকে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। এই লড়াই তাদের সঙ্গে থেকে কিংবা তাদের সঙ্গে না থেকেও করা সম্ভব বলে উল্লেখ করেন তিনি। কারাগারে যাওয়া বা আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার জন্য তারা প্রস্তুত বলেও জানান সৌরভ। একই পোস্টের শেষদিকে তিনি জানান, বিক্ষোভ থামবে না। ১০ অক্টোবর বড় সমাবেশ হবে এবং দেশবাসী তা নিশ্চিত করবে।

সৌরভ দাসের ওই পোস্টের পরপরই সিজেপি নেতা অভিজিৎ দিপকে আরেকটি পোস্ট দেন। সেখানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে উদ্দেশ করে তিনি লেখেন, ‘কতজনকে গ্রেপ্তার করবেন অমিত শাহ? ১০ অক্টোবর সারা দেশ যন্তর মন্তরে আসবে।’

গান্ধীজয়ন্তীতে মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে সফল বিক্ষোভ সমাবেশের পর ১০ অক্টোবর ‘যন্তর মন্তর ২.০’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন সিজেপি নেতারা। তারা জানান, ওই দিন পুলিশ তাদের যেখানেই আটক করুক না কেন, সেখানেই যন্তর মন্তর তৈরি হবে।

বিরোধী জোট ইন্ডিয়া ২ অক্টোবর থেকে ধারাবাহিকভাবে যন্তর মন্তর অভিযানের ডাক দেওয়ার পর দিল্লি পুলিশ পুরো এলাকাটি ব্যারিকেড করে রেখেছে। রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে কেউ যাতে যন্তর মন্তরে পৌঁছাতে না পারে, তা নিশ্চিত করা হয়েছে। এরপর থেকে দিল্লিতে প্রতিদিন বিভিন্ন সংগঠন, ব্যক্তি ও নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ হচ্ছে। এসব ঘটনায় অনেককে গ্রেপ্তারও করা হচ্ছে।

এদিকে ভোট বর্জনের ডাকও আবার দিয়েছেন অভিজিৎ দিপকে। সোমবার পুনেতে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, জ্ঞানেশ কুমার যত দিন ক্ষমতায় থাকবেন এবং তাঁর তৈরি ভোটার তালিকা অনুযায়ী নির্বাচন হবে, তত দিন সেই নির্বাচনে অংশ নেওয়া অর্থহীন। কারণ তাঁর দাবি, ওই নির্বাচনে কারা জয়ী হবে, তা আগে থেকেই নির্ধারিত।

অভিজিৎ দিপকের যুক্তি, মোদি হাওয়া যখন তুঙ্গে ছিল, তখনও যেসব রাজ্যে বিজেপি জয় পায়নি, এখন সেসব রাজ্যে দলটি সহজেই জয় পাচ্ছে। তাঁর মতে, এটি সম্ভব হয়েছে জ্ঞানেশ কুমারের কারণে। তিনি সরে গেলে এবং এসআইআর ফ্রিজ করা হলে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টে জ্ঞানেশ কুমার-সংক্রান্ত মামলার শুনানি রয়েছে। অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারকে অন্ধকারে রেখে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এককভাবে ক্ষমতা প্রয়োগ করেছেন কি না, সেটিই মামলার মূল বিষয়। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার এজলাসে মামলাটির শুনানি হবে।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বিকাশ সিং এই মামলা করেন। আবেদনকারীর বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনে তিনজন সদস্য রয়েছেন। সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমিশনের ওপর ন্যস্ত এবং তিনজনের সম্মতি প্রয়োজন। মতপার্থক্য দেখা দিলে সংখ্যাগরিষ্ঠের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

তবে অভিযোগ করা হয়েছে, গত ১০ মাসে অন্তত ১৪টি ক্ষেত্রে দুই নির্বাচন কমিশনার আপত্তি জানানো সত্ত্বেও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এভাবে তিনি ভোটার তালিকার ডেটাবেজ কেন্দ্রীভূত করেছেন এবং ফর্ম ৬-এ বেআইনিভাবে নতুন তথ্য যুক্ত করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া দিল্লির আইনজীবী শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠি আরেকটি মামলা করেছেন। তাঁর দাবি, জ্ঞানেশ কুমারের অনিয়ম সংবিধানবিরোধী। ফলে তিনি রক্ষাকবচের অধিকারী নন এবং তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার সুযোগ দেওয়া উচিত। পাশাপাশি তাঁর অনিয়ম তদন্তে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিশেষ তদন্তকারী দল গঠনের আবেদন জানানো হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টে শুনানির আগেই নির্বাচন কমিশনের কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঁইয়া ও সাবেক বিচারপতি রোহিনটন ফলি নরিম্যান।

গতকাল এক অনুষ্ঠানে বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঁইয়া বলেন, ভোটদানের অধিকার থেকে কোনো নাগরিককে বঞ্চিত করা শরীর থেকে প্রাণ কেড়ে নেওয়ার মতো। লাখ লাখ মানুষকে এভাবে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত করা সংবিধানের পরিপন্থী বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর আরও বক্তব্য, মৃত ভোটার ছাড়া অন্য কাউকে শুনানি বা নোটিশ না দিয়ে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যায় না।

সাবেক বিচারপতি রোহিনটন ফলি নরিম্যান বলেন, অবৈধভাবে কোটি কোটি ভোটারের নাম বাদ দিয়ে গণতন্ত্রকে বিপদের মুখে ফেলা হয়েছে। তাঁর মতে, গণতন্ত্রের মূল বিষয়ই হলো ভোটদানের অধিকার। নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগপদ্ধতিরও সমালোচনা করেন তিনি এবং আশা প্রকাশ করেন, সুপ্রিম কোর্ট এই ভুল সংশোধন করবে।

নরিম্যানের মতে, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী নেতা এবং সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বা তাঁর মনোনীত প্রতিনিধির অংশগ্রহণে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের পদ্ধতি নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

এদিকে সিজেপি নেতা সৌরভ দাস সুপ্রিম কোর্টের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে এসআইআর প্রক্রিয়া চলতে দেওয়ার ক্ষেত্রে আদালতের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে।

প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর নাম উল্লেখ করে সৌরভ দাস অভিযোগ করেন, তারা বাংলা ও বিহারে এসআইআর প্রক্রিয়া বাধাহীনভাবে চলতে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, সময়মতো প্রয়োজনীয় মামলাগুলোর শুনানি না হওয়ায় ভোটাধিকার-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর নিষ্পত্তি হয়নি। এতে সাধারণ মানুষের কাছে সুপ্রিম কোর্টের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সৌরভ দাস আরও বলেন, শুধু এসআইআর নয়, মহারাষ্ট্র সরকারের পতন, দিল্লির সাংবিধানিক সংকট এবং রাজনৈতিক দলের ভাঙন নিয়ে করা মামলাগুলোর শুনানিও যথাসময়ে শুরু হয়নি। তাঁর অভিযোগ, এর সুবিধা পেয়েছে শাসকদল বিজেপি।

/এসএন