যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুধু ফুটবলের লড়াই নয়, বিশ্বের নানা রাজনৈতিক ও মানবিক ইস্যুরও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। টুর্নামেন্টকে ‘রাজনীতিমুক্ত’ রাখার চেষ্টা থাকলেও বিভিন্ন ম্যাচে গ্যালারিজুড়ে ফিলিস্তিনের পতাকা এবং ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান দেখা যাচ্ছে।
ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন জানাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সমর্থক, খেলোয়াড়, কোচ এবং পরিচিত ব্যক্তিরা নানা উপায়ে সংহতি প্রকাশ করেছেন। গাজায় চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই সংহতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে স্পেনের অবস্থান বিশেষভাবে আলোচিত। দেশটির নীতিগত অবস্থান এবং গাজা ইস্যুতে বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে স্পেনকে অনেক ফিলিস্তিনপন্থী সমর্থক নিজেদের পছন্দের দল হিসেবে দেখছেন।
স্পেনের ফ্রান্স ম্যাচের দিন গ্যালারিতে অস্কারজয়ী স্প্যানিশ অভিনেতা হাভিয়ের বারদেম ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে উপস্থিত ছিলেন। একইভাবে বার্সেলোনার তরুণ ফুটবলার লামিন ইয়ামালও অতীতে ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আলোচনায় আসেন।
অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় পাওয়ার পর মিসরের কোচ হোসাম হাসান ফিলিস্তিনের পতাকা উড়িয়ে সেই জয় ফিলিস্তিনি ও আরব বিশ্বের মানুষের প্রতি উৎসর্গ করেন।
গাজার যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের জন্য বিশ্বকাপ দেখার আয়োজন করতে গিয়ে নিহত হন ‘ইজিপ্সিয়ান রিলিফ কমিটি’র জ্যেষ্ঠ সদস্য মোহাম্মদ আল-ওয়াহিদি। তাঁর মৃত্যু বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয় এবং গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
নিজেদের যুদ্ধ ও গণহত্যার ইতিহাসের কারণে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার সমর্থকরাও এবারের বিশ্বকাপে ফিলিস্তিনের প্রতি প্রকাশ্যে সংহতি জানিয়েছেন। একইভাবে তুরস্ক, মরক্কো, আলজেরিয়া, সেনেগাল, ইরান, স্কটল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের সমর্থকদের মধ্যেও ফিলিস্তিনের পতাকা ও সংহতির বার্তা দেখা গেছে।
এদিকে নরওয়েজিয়ান ফুটবল ফেডারেশন ২০২৫ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচ থেকে প্রাপ্ত টিকিট বিক্রির অর্থ ও স্পন্সরদের অনুদান মিলিয়ে প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার গাজায় জরুরি চিকিৎসা সহায়তার জন্য ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস-এর কাছে প্রদান করে।
এবারের বিশ্বকাপ ঘিরে ফিফার বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত, রেফারিং এবং টুর্নামেন্ট পরিচালনা নিয়ে বিভিন্ন পক্ষ থেকে সমালোচনাও উঠে এসেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্যালারি শুধু ফুটবল সমর্থনের জায়গা নয়, বরং বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন মানবিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে মানুষের অবস্থান প্রকাশেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে পরিণত হয়েছে।
/এএসএফ