জাপানের বিপক্ষে ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষ হয়েছিল হতাশার মধ্য দিয়ে। বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে থেকেও বিরতিতে ১-০ গোলে পিছিয়ে ছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। তবে ড্রেসিংরুমে কোচ কার্লো আনচেলত্তির শান্ত ও আত্মবিশ্বাসী বার্তাই দ্বিতীয়ার্ধে দলের খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেয় বলে জানিয়েছেন ব্রাজিল অধিনায়ক ও মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরো।
হিউস্টনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে জাপানকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করে সেলেসাওরা। দ্বিতীয়ার্ধে সমতাসূচক গোল করেন ক্যাসেমিরো। পরে যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির জয়সূচক গোলে নাটকীয় জয় নিশ্চিত হয় ব্রাজিলের।
ম্যাচ শেষে ক্যাসেমিরো বলেন, প্রথমার্ধে পিছিয়ে থাকলেও বিরতির সময় আনচেলত্তি ড্রেসিংরুমে কোনো ধরনের চাপ বা উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হতে দেননি। বরং সবাইকে শান্ত থেকে নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
ব্রাজিল অধিনায়কের ভাষ্য, পুরো ম্যাচেই বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল তাদের দখলে। প্রথমার্ধে জাপান কার্যত একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছিল এবং সেটিকেই গোলে রূপ দেয়। তবে সেই গোল যেন দলের আত্মবিশ্বাসে প্রভাব ফেলতে না পারে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কোচ আনচেলত্তি।
ক্যাসেমিরো জানান, কোচ খেলোয়াড়দের মনে করিয়ে দেন যে প্রতিপক্ষের ওপর যে চাপ তৈরি হয়েছে, সেটি ধরে রাখতে পারলে সুযোগ আসবেই এবং গোলও পাওয়া যাবে। সেই বার্তাই দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিলের খেলায় বড় পরিবর্তন এনে দেয়।
বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে ব্রাজিল। একের পর এক আক্রমণে জাপানের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখে তারা এবং শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত জয় তুলে নেয়। ক্যাসেমিরোর মতে, এই ম্যাচে দলের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল মানসিক দৃঢ়তা এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার মানসিকতা।
অধিনায়ক হিসেবে বদলি খেলোয়াড়দেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। তার মতে, বড় টুর্নামেন্টে শুধু শুরুর একাদশ নয়, বেঞ্চের ফুটবলারদের অবদানও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, মাঠে নেমে এন্দ্রিক আক্রমণে নতুন গতি যোগ করেন। গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি জয়সূচক গোল করে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। একই সঙ্গে তরুণ রায়ানের পারফরম্যান্সেরও প্রশংসা করেন ক্যাসেমিরো। তার মতে, রাফিনহার অনুপস্থিতি একেবারেই অনুভব করতে দেননি তিনি। এসব পারফরম্যান্সই ব্রাজিল দলের গভীরতা ও ঐক্যের প্রতিফলন।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ব্রাজিলের জন্য সুখকর ছিল না। প্রথমার্ধে সানোর গোলে এগিয়ে যায় জাপান। তবে বিরতির পর পাল্টে যায় পুরো ম্যাচের চিত্র। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ক্যাসেমিরোর গোলে সমতায় ফেরে ব্রাজিল। এরপর ধারাবাহিক আক্রমণে জাপানের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে তারা। শেষ পর্যন্ত যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে মার্টিনেল্লির গোলেই ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ব্রাজিল এবং শেষ ষোলোর টিকিট কেটে নেয়।
এখন নকআউট পর্বে নরওয়ে ও আইভরি কোস্টের মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ী দলের মুখোমুখি হবে আনচেলত্তির শিষ্যরা। আগামী রোববার বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় অনুষ্ঠিত হবে শেষ ষোলোর সেই ম্যাচ, যেখানে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করাই থাকবে ব্রাজিলের লক্ষ্য।
/এসএন