ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে এশিয়ার পরাশক্তি জাপান। এবার তাদের সামনে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা—রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে যথাযথ সম্মান জানালেও জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী সামুরাই ব্লুরা।
আগামী ২৯ জুন যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে মুখোমুখি হবে জাপান ও ব্রাজিল। কাগজে-কলমে ব্রাজিল এগিয়ে থাকলেও শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেওয়ার স্বপ্নকে অসম্ভব মনে করছেন না জাপানের কোচ হাজিমে মোরিয়াসু ও তার শিষ্যরা।
এই আত্মবিশ্বাসের বড় কারণ সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স। গত বছরের সেপ্টেম্বরে টোকিওতে অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ব্রাজিলকে ৩-২ গোলে হারিয়েছিল জাপান। সেই জয়ের পর থেকে টানা ১০ ম্যাচ অপরাজিত রয়েছে দলটি। এই সময়ে ওয়েম্বলিতে ইংল্যান্ডকে হারানো, বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ড্র এবং তিউনিসিয়াকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার মতো সাফল্য পেয়েছে তারা।
বিশ্বকাপে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে সেই জয় আবার ইতিহাসও গড়েছে। এশিয়ার কোনো দল হিসেবে বিশ্বকাপের এক ম্যাচে চার গোল করার বিরল কীর্তি গড়েছে জাপান।
দারুণ ছন্দে থাকা গোলরক্ষক জিয়ন সুজুকি মনে করেন, অপরাজিত থাকার আত্মবিশ্বাস ব্রাজিলের বিপক্ষে তাদের অন্যতম বড় শক্তি। তবে প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।
জাপানের প্রধান কোচ হাজিমে মোরিয়াসু বলেন, গত সেপ্টেম্বরে ব্রাজিলকে হারানোর স্মৃতি সেলেসাওদের আরও সতর্ক করে তুলবে। তবে সেই ম্যাচই প্রমাণ করেছে, জাপান এখন আর সহজ প্রতিপক্ষ নয়।
ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মোরিয়াসু বলেন, ব্রাজিল বিশ্বের অন্যতম সেরা দল। তবে সঠিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারলে জয় অসম্ভব নয়।
জাপানের এই বিশ্বাসের সঙ্গে একমত ব্রাজিল কিংবদন্তি জিকোও। ২০০২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জাপানের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই সাবেক তারকা মনে করেন, বর্তমান জাপান বিশ্বের যেকোনো দলের বিপক্ষে সমানতালে লড়াই করার সামর্থ্য অর্জন করেছে।
জিকো বলেন, গত কয়েক বছরে ব্রাজিল, জার্মানি, স্পেন ও ইংল্যান্ডকে হারিয়ে জাপান প্রমাণ করেছে তারা আর কেবল সম্ভাবনাময় দল নয়, বরং সত্যিকারের প্রতিদ্বন্দ্বী। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে তাদের মানসিকতায়। এখন তারা প্রতিকূল পরিস্থিতি সামলাতে পারে এবং পিছিয়ে পড়েও ম্যাচে ফিরতে জানে।
এদিকে ম্যাচটি ঘিরে নতুন আলোচনা তৈরি করেছেন জার্মান অর্থনীতিবিদ ও গবেষক জোয়াকিম ক্লেমেন্ট। ২০১৪ সাল থেকে বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন সঠিকভাবে অনুমান করার দাবি করা এই গবেষক তার গাণিতিক মডেলে এবার ব্রাজিলের বিপক্ষে জাপানের জয় দেখিয়েছেন।
ক্লেমেন্টের মডেলটি শুধু ফুটবলীয় পরিসংখ্যান নয়, বরং মাথাপিছু জিডিপি, জনসংখ্যা, আবহাওয়া এবং বিভিন্ন সামাজিক-অর্থনৈতিক সূচক বিশ্লেষণ করেও প্রতিটি দলের সম্ভাবনা নির্ধারণ করে।
চলতি বছরের এপ্রিলে প্রকাশিত তার গবেষণাপত্রে ২০২৬ বিশ্বকাপের সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নেদারল্যান্ডসের নাম উঠে এসেছে। যদিও তার সব পূর্বাভাস বাস্তবে মেলেনি, তবুও ব্রাজিল-জাপান ম্যাচ নিয়ে তার ভবিষ্যদ্বাণী ফুটবলপ্রেমীদের কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে
/এএসএফ