• ঢাকা
  • শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০৩:৫৬ এএম


‘কার অনুমতিতে জাবের বাদী হলেন?’— ফেসবুক পোস্টে প্রশ্ন হাদির বোনের

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৫ জুন ২০২৬ ৯:২৬ পিএম

শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার বাদী নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার বোন মাসুমা হাদি। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের ‘নোংরামি’ ও ‘মিথ্যাচার’ ছড়ানো হচ্ছে।

শুক্রবার (৫ জুন) সকাল ১১টার দিকে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি ঘটনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

মাসুমা হাদি বলেন, পারিবারিক কারণে শুরু থেকেই তিনি অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলা থেকে বিরত ছিলেন। তবে গত দুই দিন ধরে ভাইয়ের হত্যা মামলার বাদী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেভাবে আলোচনা ও সমালোচনা চলছে, তাতে তিনি বিষয়টি পরিষ্কার করার প্রয়োজন অনুভব করেছেন।

পোস্টে তিনি দাবি করেন, ভাই গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়ার পরপরই তিনি ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ছুটে যান এবং পুরো সময় সেখানে অবস্থান করেন। তার ভাষ্যমতে, হাসপাতালে থাকার সময় তিনি এক মুহূর্তের জন্যও সেখান থেকে কোথাও যাননি।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, হাসপাতালে উপস্থিত থাকার পরও কেন প্রশাসনের পক্ষ থেকে আব্দুল্লাহ আল জাবেরের কাছ থেকে মামলার স্বাক্ষর নেওয়া হলো। এ বিষয়টি নিয়ে তিনি একাধিকবার প্রশ্ন করেছেন বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন।

মাসুমা হাদি আরও বলেন, তাকে জানানো হয়েছিল যে পরিবারের একজন স্বজন ওমর ফারুক চিকিৎসা-সংক্রান্ত পরিস্থিতির কারণে পরে বিষয়টি দেখবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সে সময় পরিবারের প্রধান অগ্রাধিকার ছিল চিকিৎসা নিশ্চিত করা।

ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে বাদীর স্বাক্ষর আগে বা পরে নেওয়া হলে তাতে কোনো আইনি জটিলতা সৃষ্টি হয় না। পাশাপাশি পুলিশ চাইলে ঘটনার প্রেক্ষিতে স্বতঃপ্রণোদিত হয়েও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।

ওমর ফারুকের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, সংকটময় পরিস্থিতিতে হাসপাতালে অবস্থান করেও তিনি চিকিৎসা কার্যক্রম এবং বিদেশে নেওয়ার উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পরে সরকারের উদ্যোগে চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রক্রিয়াও এগিয়ে যায় বলে উল্লেখ করেন মাসুমা হাদি।

তিনি আরও বলেন, ভাইয়ের চিকিৎসা ও সংকটপূর্ণ সময়ের অনেক বিষয় পরিবার শুরুতে প্রকাশ্যে আনেনি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন আলোচনা ও সমালোচনার কারণে তারা ব্যাখ্যা দিতে বাধ্য হয়েছেন।

মাসুমা হাদির অভিযোগ, একটি ‘বিপ্লবী’ ব্যক্তিত্বের পরিবারকে ঘিরে পরিকল্পিতভাবে অনলাইনে বিভ্রান্তি ও অসম্মান ছড়ানো হচ্ছে। তিনি এসব অপপ্রচার বন্ধ করার আহ্বান জানান এবং বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক সৃষ্টি না করার অনুরোধ করেন।

/এসএন