• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:১২ পিএম


কাদের কুরবানি কবুল হবে না? ইসলামের নির্দেশনায় বিস্তারিত

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৬ মে ২০২৬ ৪:১৮ পিএম

কুরবানি ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যা কেবল পশু জবাইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ত্যাগ, তাকওয়া এবং একনিষ্ঠতার প্রকাশ। তাই বাহ্যিকভাবে কুরবানি আদায় করলেও সবার কুরবানি আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হয় না। কুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে—কার কুরবানি কবুল হবে এবং কার হবে না।

কুরবানির বিধান: কুরআনের আলোকে

আল্লাহ তাআলা বলেন—

“প্রত্যেক জাতির জন্য আমি কুরবানির নিয়ম করে দিয়েছি; যাতে তারা আল্লাহর নাম স্মরণ করতে পারে, যে সমস্ত জন্তু তিনি রিজিক হিসেবে দিয়েছেন তার উপর। তোমাদের ইলাহ তো এক ইলাহ; অতএব তাঁরই কাছে আত্মসমর্পণ করো; আর অনুগতদেরকে সুসংবাদ দাও।” (সুরা হজ: আয়াত ৩৪)

এছাড়া আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন—
“আপনি আপনার রবের জন্য নামাজ আদায় করুন এবং কুরবানি করুন।” (সুরা কাউসার: আয়াত ২)

যাদের কুরবানি কবুল হবে না

১. নিয়তে ইখলাস না থাকলে
কুরবানি কবুল হওয়ার জন্য নিয়তের বিশুদ্ধতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারও নিয়ত যদি শুদ্ধ না হয়, তবে কুরবানি গ্রহণযোগ্য হবে না। এমনকি অংশীদারদের মধ্যে কারও নিয়ত ভুল থাকলেও পুরো কুরবানি বাতিল হয়ে যেতে পারে। আল্লাহ তাআলা বলেন—

“আল্লাহর কাছে কখনোই পশুর গোশত বা রক্ত পৌঁছায় না; বরং পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।” (সুরা হজ: আয়াত ৩৭)

২. লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে কুরবানি করলে
কুরবানি শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য হতে হবে। সুনাম অর্জন বা প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে কুরবানি করলে তা গ্রহণযোগ্য হয় না। কুরআনে বলা হয়েছে—

“নিশ্চয়ই আল্লাহ মুত্তাকিদের কুরবানিই কবুল করেন।” (সুরা মায়েদা: আয়াত ২৭)

৩. কুরআন-সুন্নাহর বিধান অমান্য করলে
আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর নির্দেশনা অনুসরণ ছাড়া কোনো ইবাদতই গ্রহণযোগ্য হয় না। কুরআনে বলা হয়েছে—

“যে তার প্রতিপালকের সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম করে এবং ইবাদতে কাউকে শরিক না করে।” (সুরা কাহফ: আয়াত ১০)

শুধু গোশত খাওয়ার উদ্দেশ্যে কুরবানি করলে তা গ্রহণযোগ্য হয় না।

৪. অংশীদারিতে অসাম্য হলে
কুরবানির পশুতে অংশীদারদের অংশ সমান হওয়া বাধ্যতামূলক। কারও অংশ কম বা বেশি হলে কোনো অংশীদারের কুরবানিই শুদ্ধ হবে না। গরু, মহিষ বা উট সর্বোচ্চ সাত ভাগে কুরবানি করা যায় এবং কম ভাগেও করা বৈধ।

৫. শুধু গোশত খাওয়ার উদ্দেশ্যে কুরবানি করলে
আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্য ছাড়া শুধুমাত্র মাংস পাওয়ার জন্য কুরবানি করলে তা সহিহ হবে না। এমন ব্যক্তিকে অংশীদার করলে অন্যদের কুরবানিও গ্রহণযোগ্য হবে না।

৬. হারাম উপার্জনের অর্থ দিয়ে কুরবানি করলে
অবৈধ বা হারাম অর্থ দিয়ে কুরবানি করলে তা আল্লাহর কাছে কবুল হয় না। কারণ আল্লাহ পবিত্র এবং তিনি কেবল পবিত্র জিনিসই গ্রহণ করেন। কুরআনে বলা হয়েছে—

“হে ঈমানদারগণ! তোমরা ব্যয় কর তোমাদের অর্জিত হালাল সম্পদ থেকে…” (সুরা বাকারা: আয়াত ২৬৭)

কুরবানির আসল শিক্ষা

কুরবানি কেবল পশু জবাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি মানুষের অন্তরের পরীক্ষা। এখানে আল্লাহ দেখেন না পশুর আকার বা মূল্য; তিনি দেখেন মানুষের নিয়ত, তাকওয়া এবং একনিষ্ঠতা। তাই কুরবানি কবুল হওয়ার জন্য অন্তরের পবিত্রতা, হালাল উপার্জন এবং কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশনা অনুসরণ করা অপরিহার্য।

/এসএন