ইসলামে কুরবানি ও আকিকা—উভয়ই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হিসেবে বিবেচিত। কুরবানি নির্দিষ্ট সময়ের ইবাদত, আর আকিকা সন্তানের জন্মের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি সুন্নত আমল। অনেক সময় বাস্তব প্রয়োজনে বা শরিকানার সুবিধার কথা বিবেচনা করে প্রশ্ন ওঠে—একই পশুতে কি কুরবানি ও আকিকা একসঙ্গে আদায় করা সম্ভব? এ বিষয়ে শরীয়তের নির্দেশনা জানা জরুরি।
ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, কুরবানি যেমন আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করা হয়, আকিকাও একই উদ্দেশ্যে আদায় করা হয়। তাই এক পশুর মধ্যে কুরবানি ও আকিকার নিয়ত একত্র করা শরীয়তসম্মত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
বিশেষ করে উট বা গরুর মতো বড় পশুর ক্ষেত্রে, যেখানে সর্বোচ্চ সাতজন পর্যন্ত শরিক হওয়া যায়, সেখানে কিছু অংশ কুরবানির জন্য এবং অন্য অংশ আকিকার জন্য নির্ধারণ করা বৈধ। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, চারজন ব্যক্তি কুরবানির নিয়তে অংশ নিলে বাকি দুই বা তিনজন আকিকার নিয়তে শরিক হতে পারেন।
যেমন কুরবানিতে একাধিক ব্যক্তি শরিক হতে পারেন, তেমনি আকিকাতেও একাধিক ব্যক্তি একই পশুতে অংশগ্রহণ করতে পারেন। এ বিষয়ে ফিকহের কিতাব ‘রদ্দুল মুহতার’ (৬/৩২৬)-এ উল্লেখ রয়েছে।
আকিকার গুরুত্ব সম্পর্কেও হাদিসে বিভিন্ন নির্দেশনা পাওয়া যায়। আকিকা সন্তানের জন্য কল্যাণ ও বরকতের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত।
হাদিসে বলা হয়েছে—
“প্রত্যেক শিশু তার আকিকার সঙ্গে বন্ধক থাকে। জন্মের সপ্তম দিনে তার পক্ষ থেকে পশু জবাই করা হবে, তার নাম রাখা হবে এবং মাথা মুন্ডন করা হবে।” (তিরমিজি ১৫২২)
আরেক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে—
“রাসুলুল্লাহ (সা.) তার নাতি হাসান (রা.)-এর পক্ষ থেকে একটি ছাগল দ্বারা আকিকা করেছেন।” (তিরমিজি ১৬০২)
এছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন—
“ছেলে সন্তানের জন্য দুটি ছাগল এবং মেয়ে সন্তানের জন্য একটি ছাগল আকিকা করতে।” (তিরমিজি)
আরেক বর্ণনায় এসেছে—
“ইহুদিরা ছেলে সন্তানের আকিকা করত, কিন্তু মেয়ের করত না। তোমরা ছেলে সন্তানের জন্য দুটি এবং মেয়ে সন্তানের জন্য একটি ছাগল দিয়ে হলেও আকিকা করো।” (বায়হাকি ১৯৭৬০)
সন্তান জন্মের সপ্তম দিনে আকিকা করা উত্তম হলেও, সেই সময় সম্ভব না হলে পরবর্তীতেও তা আদায় করা যায়। এমনকি কুরবানির ঈদের দিনও আকিকা করা জায়েজ।
সবশেষে বলা যায়, কুরবানি ও আকিকা—দুই ইবাদতের লক্ষ্যই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। শরীয়তের দৃষ্টিতে, বিশেষ করে বড় পশুর ক্ষেত্রে এক পশুতে উভয় ইবাদতের নিয়ত একত্র করা বৈধ ও গ্রহণযোগ্য। এতে মুসলমানদের জন্য সহজতা সৃষ্টি হয়। সঠিক নিয়ত ও শরীয়তসম্মত পদ্ধতিতে এ ইবাদত আদায় করলে তা কবুল হওয়ার আশা করা যায়।
/এসএন