• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৪২ এএম


‘খেলা হবে’ স্লোগানের পর এখন কোথায় ওবায়দুল কাদের?

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৩ আগস্ট ২০২৬ ৫:০৯ পিএম

আওয়ামী লীগের শাসনামলে রাজনৈতিক অঙ্গনের বহুল আলোচিত স্লোগানগুলোর একটি ছিল ‘খেলা হবে’। দলটির সাধারণ সম্পাদক ও তৎকালীন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিভিন্ন রাজনৈতিক সমাবেশে নিয়মিত এই স্লোগান উচ্চারণ করতেন। একই সময়ে তিনি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্দেশ করে বলেছিলেন, ‘পালাব না। কোথায় পালাব! পালাব না, প্রয়োজনে ফখরুল সাহেবের বাসায় গিয়ে উঠব।’

কিন্তু ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়েন। এরপর থেকেই জনসমক্ষে আর দেখা যায়নি ওবায়দুল কাদেরকে। সরকার পতনের আগে নিয়মিত বক্তব্য-বিবৃতি দিলেও এরপর দীর্ঘ সময় তিনি সম্পূর্ণ নীরব হয়ে যান। তার অবস্থান নিয়ে শুরু হয় নানা ধরনের জল্পনা-কল্পনা।

সে সময় বিভিন্ন মহলে দাবি ওঠে, তিনি যশোর সীমান্ত দিয়ে ভারতে চলে গেছেন। আবার কেউ কেউ দাবি করেন, তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে আরেকটি মত ছিল, দীর্ঘ সময় তিনি দেশের ভেতরেই আত্মগোপনে ছিলেন।

এরই মধ্যে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত দৈনিক মানবজমিনের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, গণঅভ্যুত্থানের পর প্রায় তিন মাস পাঁচ দিন ওবায়দুল কাদের বাংলাদেশেই আত্মগোপনে ছিলেন। পরে ৮ নভেম্বর তিনি শিলং হয়ে ভারতের কলকাতায় পৌঁছান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। একই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভারতে তার আশ্রয়ের বিষয়েও বিভিন্ন পর্যায়ে তদবির করা হয়েছিল।

মানবজমিনে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেন তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তিনি প্রশ্ন তোলেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি থাকার পরও কেন ওবায়দুল কাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং কীভাবে তিনি দেশ ছাড়তে সক্ষম হয়েছেন।

এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে নির্দেশ দেন। আদালত ১৫ দিনের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলে জানতে চান, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর না হওয়ার কারণ কী এবং তিনি কীভাবে দেশের সীমান্ত অতিক্রম করেছেন। একই সঙ্গে আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে কেউ তাকে পালাতে সহায়তা করে থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে আদালতে উল্লেখ করা হয়।

অন্যদিকে, সে সময়ের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ওবায়দুল কাদের কোথায় আত্মগোপনে ছিলেন, তা সরকারের জানা ছিল না। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি জানতাম তিনি কোথায় আছেন, তাহলে অবশ্যই তাকে গ্রেপ্তার করা হতো।’

/এসএন