• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৬ এএম


‘পালাব না’ বক্তব্যের পর কোথায় ওবায়দুল কাদের, মিলছে না কোনো খোঁজ

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৩ আগস্ট ২০২৬ ৫:০৭ পিএম

‘আমরা এই দেশে জন্মেছি, এই দেশে মরব, পালাব না। কোথায় পালাব! পালাব না, প্রয়োজনে ফখরুল সাহেবের বাসায় গিয়ে উঠব’—২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্দেশ করে এ মন্তব্য করেছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও তৎকালীন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আওয়ামী লীগের এক জনসভায় দেওয়া ওই বক্তব্যের সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন দলের সভাপতি ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এর কয়েক মাস পরই ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ত্যাগ করেন শেখ হাসিনা।

সরকার পতনের পর থেকে ওবায়দুল কাদেরের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেলেও বর্তমানে কোথায় আছেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই। শুধু জনসমক্ষে নয়, ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমেও তার কোনো উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে না। সরকার পতনের আগে প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য-বিবৃতি দেওয়া এই নেতা এরপর থেকে গণমাধ্যমেও কোনো বক্তব্য দেননি।

এদিকে তার ‘পালাব না’ বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গান তৈরি হয়েছে, যা ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে। পাশাপাশি তার বিভিন্ন বক্তব্য নিয়ে মিম ও প্যারোডিও ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে।

সরকার পতনের পর শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের অধিকাংশ নেতা দেশ ছেড়েছেন। তাদের অনেকেই ভারতে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। শুধু কেন্দ্রীয় নেতারাই নন, দলটির মাঝারি সারির এবং সহযোগী সংগঠনের বহু নেতাও ভারতে রয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। বিদেশে অবস্থানরত অনেক নেতা গণমাধ্যমকর্মী ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলেও ওবায়দুল কাদেরের অবস্থান সম্পর্কে কেউ নির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি।

গত প্রায় আড়াই মাসে আওয়ামী লীগের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাদের কেউই ওবায়দুল কাদের কোথায় আছেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানাতে পারেননি। এমনকি তিনি দলের কোনো নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন—এমন তথ্যও কারও কাছে নেই।

ওবায়দুল কাদেরের ঘনিষ্ঠ একাধিক নেতা জানিয়েছেন, ৫ আগস্ট দুপুর পর্যন্ত তিনি ধানমন্ডি এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এরপর থেকে তার সঙ্গে কারও যোগাযোগ হয়েছে বলে তারা জানেন না।

আওয়ামী লীগের এক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, ওবায়দুল কাদের সব সময় গণমাধ্যমের প্রচারের আলোয় থাকতে পছন্দ করতেন। কিন্তু কী পরিস্থিতিতে তিনি গত আড়াই মাস ধরে গণমাধ্যম ও দলীয় নেতাকর্মীদের কাছ থেকে দূরে রয়েছেন, সেটি একমাত্র তিনিই ভালো বলতে পারবেন।

তবে বিদেশে অবস্থান করে দলের কিছু নেতার দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্য নিয়েও দেশে থাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। তাদের অভিযোগ, বিদেশ থেকে সরকারকে লক্ষ্য করে বক্তব্য দেওয়ার কারণে দেশে থাকা নেতাকর্মীরা আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন।

এদিকে ওবায়দুল কাদের তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে সর্বশেষ পোস্ট করেন ২০২৪ সালের ৫ জুলাই। সেদিন পদ্মা সেতু প্রকল্পের সার্ভিস এরিয়া-১ এলাকায় তোলা নিজের বিভিন্ন ভঙ্গিমার ১২টি ছবি প্রকাশ করেন তিনি। পোস্টটিতে এক লাখের বেশি লাইক, লাভ ও ‘হা হা’ রিয়্যাক্ট পড়ে, যার মধ্যে প্রায় ৫২ হাজার ছিল ‘হা হা’ প্রতিক্রিয়া। এছাড়া ৩৮ হাজারের বেশি মন্তব্য এবং সাড়ে সাত হাজারের বেশি শেয়ার হয় পোস্টটি। এরপর থেকে ওই ফেসবুক পেজে আর কোনো নতুন পোস্ট দেখা যায়নি।

/এসএন