জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবাকে আরও সহজ, আধুনিক ও নাগরিকবান্ধব করতে এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে একাধিক সংস্কারমূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন উদ্যোগের আওতায় জন্মতারিখ সংশোধন, ভোটার এলাকা পরিবর্তন এবং প্রবাসীদের এনআইডি প্রাপ্তির প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত কমিশন সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
তিনি জানান, এনআইডি সংশোধনের ক্ষেত্রে সাধারণ নাগরিকদের হয়রানি কমাতে মাঠ পর্যায়ে ডেলিগেশন বা ক্ষমতা হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে জেএসসি, এসএসসি কিংবা পিএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষার সনদের ভিত্তিতে জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন করা হলে তা আর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পাঠাতে হবে না। এসব আবেদন মাঠ পর্যায় থেকেই নিষ্পত্তি করা হবে।
এ ছাড়া এনআইডি স্থানান্তর বা ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদনও অনলাইনে করার সুযোগ চালু করা হচ্ছে। নির্ধারিত সরকারি ফি পরিশোধের মাধ্যমে নাগরিকরা এই সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
এনআইডি নবায়ন প্রক্রিয়াতেও নতুন নিয়ম যুক্ত করা হচ্ছে। প্রতি ১৫ বছর পর জাতীয় পরিচয়পত্র নবায়নের সময় আবেদনকারীকে নির্ধারিত ফরমে পরিবারের সদস্যদের তথ্য বা ‘ফ্যামিলি ট্রি’ উল্লেখ করতে হবে। এর মাধ্যমে পারিবারিক তথ্যের ধারাবাহিকতা ও সঠিকতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে নির্বাচন কমিশন।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়াও আরও সহজ করা হচ্ছে। আগে আবেদন ও বায়োমেট্রিক গ্রহণের পর দেশে দুই ধাপে তদন্ত শেষে অনুমোদন দেওয়া হতো। নতুন ব্যবস্থায় বায়োমেট্রিক তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে অনলাইনে আপলোড করা হবে। এরপর ঢাকায় প্রাথমিক যাচাইয়ে তথ্য সঠিক পাওয়া গেলে এনআইডির অনুমোদন দেওয়া হবে। এতে একটি তদন্ত ধাপ বাদ যাবে এবং পুরো প্রক্রিয়া আগের তুলনায় দ্রুত সম্পন্ন হবে।
এ ছাড়া নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহের বয়সসীমা আরও কমানোর বিষয়েও কমিশন সভায় আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সীদের তথ্য সংগ্রহ করা হলেও ভবিষ্যতে এসএসসি, অষ্টম শ্রেণি কিংবা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির বয়স থেকেই তথ্য সংগ্রহের সুযোগ রাখা যায় কি না, তা পর্যালোচনা করছে নির্বাচন কমিশন। এ বিষয়ে পরবর্তীতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, এনআইডি সেবাকে আরও আধুনিক, সহজ এবং নাগরিকবান্ধব করতে নির্বাচন কমিশন কাজ করে যাচ্ছে। এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব ও সুপারিশ আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হবে।
এদিকে একই কমিশন সভায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনসংক্রান্ত আইন সংশোধনের কয়েকটি প্রস্তাবও চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় কার্যক্রমের জন্য সেগুলো শিগগিরই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
/এসএন