• ঢাকা
  • শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ১২:০২ এএম


জুমার দিনে যেসব আমল করতেন রাসুল (সা.)

আপডেট টাইম: ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৪১ পিএম

মুসলমানদের জীবনে জুমাবার একটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ দিন, যা সাপ্তাহিক ঈদের মর্যাদা বহন করে। ইসলামের দৃষ্টিতে এ দিনটি শুধু ইবাদতের জন্য নয়, বরং আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। রাসুল (সা.) জুমার দিনকে সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং এ দিনে কিছু বিশেষ আমল পালনের মাধ্যমে উম্মতকে অধিক সওয়াব অর্জনের প্রতি উৎসাহিত করেছেন।

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিন দিবসসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং আল্লাহর নিকট অধিক সম্মানিত।’ (ইবনে মাজাহ: ১০৮৪) 

আর এক হাদিসে বলা হয়েছে, এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত ছোট গুনাহসমূহ মাফ হয়ে যায়, যদি কবিরা গুনাহ থেকে বিরত থাকা হয়। (আবু দাউদ: ৩৪৭) 

জুমার দিনের ১১ টি আমল

১. জুমার দিন গোসল করা। যাদের ওপর গোসল ফরজ তাদের জন্য এ দিনে গোসল করাকে রাসুল (সা.) ওয়াজিব বলেছেন।

২. জুমার নামাজের জন্য সুগন্ধি ব্যবহার করা।

৩. মিসওয়াক করা।

৪. উত্তম পোশাক পরিধান করে সাধ্যমতো সাজসজ্জা করা।

৫. মুসল্লিদের ইমামের দিকে মুখ করে বসা।

৬. মনোযোগ সহকারে খুত্বা শোনা এবং খুত্বা চলাকালীন চুপ থাকা- এটা ওয়াজিব।

৭. আগে থেকেই মসজিদে যাওয়া।

৮. সম্ভব হলে হেঁটে মসজিদে যাওয়া। 

৯. জুমার দিন ও জুমার রাতে বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা।

১০. নিজের প্রয়োজনীয় জিনিস চেয়ে এ দিন বেশি বেশি দোয়া করা।

১১. কেউ খুৎবার সময় কথা বললে ‘চুপ করুন’ এতোটুকুও না বলা।

শুক্রবারের আরও কিছু আমল

১২. মসজিদে যাওয়ার আগে কাঁচা পেঁয়াজ-রসুন না খাওয়া ও ধূমপান না করা।

১৩. খুত্বার সময় ইমামের কাছাকাছি বসা।

১৪. এতোটুকু জোরে আওয়াজ করে কোনো কিছু না পড়া যাতে অন্যের ইবাদত ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা মনোযোগে বিঘ্ন ঘটে।

জুমার দিনের দোয়া

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এদিনে বিশেষ কিছু আমল রেখেছেন। এসব বিশেষ আমলের মধ্যে রয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকে গুনাহ মাফের প্রতিশ্রুতি।

জুমার দিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল সম্পর্কে হজরত আবু হুরাইরা রা. হতে বর্ণিত আছে। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন আসর নামাজের পর না উঠে ওই স্থানে বসা অবস্থায় ৮০ বার এই দরুদ শরিফ পাঠ করবে, তার ৮০ বছরের গুনাহ মাফ হবে এবং ৮০ বছরের নফল ইবাদতের সওয়াব তার আমল নামায় লেখা হবে ।

হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘তোমরা জুমার রাত ও জুমার দিনে আমার ওপর বেশি বেশি দরূদ পাঠ কর। যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরূদ পাঠ করে আল্লাহ তায়ালা তার ওপর দশবার রহমত নাজিল করেন। (আসসুনানুল কুবরা, বায়হাকি ৩/২৪৯; ফাযাইলুল আওকাত, বায়হাকি ২৭৭; আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ, ইবনুস সুন্নি ৩৭৯, এর সনদ হাসান পর্যায়ের।) 

অন্য হাদিসে আছে, প্রত্যেক জুমার দিনে তোমরা আমার ওপর অধিক পরিমাণে দরূদ পাঠ কর। কারণ আমার উম্মতের দরূদ প্রতি জুমার দিন আমার কাছে পেশ করা হয়। আর তাদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি আমার ওপর সবচেয়ে বেশি দরূদ পাঠ করে সে অন্যদের তুলায় আমার বেশি নিকটবর্তী। (সুনানে বায়হাকি ৩/২৪৯, এর সনদটি হাসান)

দরুদটি হলো:اَللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ وَعَلَى آلِهِ وَسَلِّم تَسْلِيْمَا উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিনিন নাবিয়্যিল উম্মিয়্যি ওয়া আলা আলিহী ওয়াসাল্লিম তাসলিমা।

১. সুরা কাহাফ তিলাওয়াত করা। জুমার দিনে সূরা কাহ্ফ তিলাওয়াত করলে কিয়ামতের দিন আকাশতুল্য একটি নূর প্রকাশ পাবে।

২. বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠ করা এবং বেশি বেশি জিকির করা মুস্তাহাব।

৩. জুমার রাত (বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত) ও জুমার দিনে নবী করিম (সা.) এর প্রতি বেশি বেশি দরুদ পাঠের কথা বলা হয়েছে। এমনিতেই যে কোনো সময়ে একবার দরুদ শরিফ পাঠ করলে আল্লাহ তায়ালা পাঠকারীকে দশটা রহমত দান করেন এবং ফেরেশতারা তার জন্য দশবার রহমতের দোয়া করেন।

৪. জুমার নামাজের পূর্বে দুই খুৎবার মাঝখানে হাত না উঠিয়ে মনে মনে দোয়া করা।

৫. সূর্য ডোবার কিছুক্ষণ আগ থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত গুরুত্বের সাথে জিকির, তাসবিহ ও দোয়ায় লিপ্ত থাকা।