কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার এক মাদ্রাসাছাত্রী মাত্র আট মাসে নিজ হাতে সম্পূর্ণ পবিত্র কুরআন মাজিদ লিখে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। তার লেখা এতটাই নিখুঁত যে, প্রথম দেখায় এটি ছাপা নাকি হাতে লেখা—তা বোঝা কঠিন।
এই অসাধারণ কৃতিত্বের অধিকারী সুরাইয়া জান্নাত (১৮)। তিনি লাকসাম উপজেলার মুদাফরগঞ্জ এ.ইউ. ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার আলিম দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়নের চাঁদগাঁও গ্রামে। তিনি সৌদি প্রবাসী নুর হোসেন লিটন ও জান্নাতুল ফেরদৌস দম্পতির মেয়ে।
সমবয়সীরা যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় কাটাতে ব্যস্ত, তখন সুরাইয়া নিজের সময় ব্যয় করেছেন পবিত্র কুরআন মাজিদ হাতে লেখার কাজে। মাত্র আট মাসের নিরলস প্রচেষ্টায় তিনি ১১৪টি সুরা সংবলিত ৩০ পারার সম্পূর্ণ কুরআন মাজিদ নির্ভুলভাবে লিপিবদ্ধ করেছেন।
তার হাতের লেখার সৌন্দর্য ইতোমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকের মতে, এটি কম্পিউটারে মুদ্রিত লেখার মতোই নিখুঁত ও দৃষ্টিনন্দন।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে কান্দিরপাড় ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে সুরাইয়া জান্নাতকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা পদক ও স্মারক প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক রাশেদা আক্তার, লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানা, ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুর ইসলাম, কান্দিরপাড় উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হারুনুর রশীদ, দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
কেন হাতে পুরো কুরআন মাজিদ লেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে সুরাইয়া জান্নাত বলেন, ‘পবিত্র কুরআন মহান আল্লাহ তাআলার কালাম। সাহাবায়ে কেরাম অত্যন্ত কষ্ট করে এটি আমাদের জন্য সংরক্ষণ করেছেন। সেই উপলব্ধি থেকেই এবং অযথা সময় নষ্ট না করে ভালো কিছু করার মানসিকতা থেকে আমি পুরো কুরআন মাজিদ হাতে লেখার সিদ্ধান্ত নিই। সর্বোপরি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও প্রিয় নবী (সা.)-এর শাফায়াত লাভের আশাতেই অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এই কাজটি সম্পন্ন করেছি।’
সুরাইয়ার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ইতোমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকেই তার অধ্যবসায়, ধৈর্য ও ধর্মীয় অনুরাগকে অন্য তরুণ-তরুণীদের জন্য অনুপ্রেরণার উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।
/এএসএফ