• ঢাকা
  • রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৫৬ পিএম


প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তির অভিযোগে লক্ষ্মীপুরের শ্রমিক শক্তির নেতা কারাগারে

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৩১ মে ২০২৬ ৭:০৬ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কটূক্তি ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে জাতীয় শ্রমিক শক্তির এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া আনোয়ার হোসেনকে আজ রোববার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আনোয়ার হোসেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শ্রমিক অঙ্গসংগঠন শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক। তিনি রায়পুর উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর গ্রেপ্তারের ঘটনায় বিকেলে রায়পুর শহরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন এনসিপির নেতা-কর্মীরা।

পুলিশ ও মামলার সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তি ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচারের অভিযোগ এনে আজ দুপুরে রায়পুর থানায় মামলা দায়ের করেন সোনাপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন। সাইবার সুরক্ষা আইন ও দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় করা ওই মামলায় আনোয়ার হোসেনসহ মোট আটজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলায় আনোয়ার হোসেনের দুই ভাই ইমন হোসেন ও রুবেল হোসেনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া দীপু নামে আরও একজনকে আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা চারজনকেও মামলার আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, আনোয়ার তাঁর ফেসবুক আইডি থেকে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পানিসম্পদমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করেন। এসব বিষয়ে কারণ জানতে চাইলে আনোয়ার ও তাঁর সহযোগীরা বাদীসহ অন্যদের ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে বাদীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টাও করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে শনিবার রাতে উপজেলার সোনাপুর গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে আনোয়ার হোসেনকে আটক করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

ঘটনার বিষয়ে এনসিপির লক্ষ্মীপুর জেলা কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্যসচিব আলমগীর হোসাইন দাবি করেন, বিএনপির নেতা-কর্মীরা আনোয়ারের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছেন। পরে তাঁকে মারধর করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতভেদ থাকতেই পারে, তবে একজন রাজনৈতিক কর্মীর ওপর এ ধরনের হামলার ঘটনা নিন্দনীয়।

অন্যদিকে মামলার বাদী রুহুল আমিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পানিসম্পদমন্ত্রীকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য ফেসবুকে প্রচার করা হয়েছিল। এর কারণ জানতে চাইলে আমাদের ওপর হামলা করা হয়। এ ঘটনায় মামলা করেছি। তবে আনোয়ারের বাড়িতে হামলা বা ভাঙচুরের অভিযোগ সঠিক নয়।’

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইনে দায়ের করা মামলায় আনোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।