চলমান গ্যাস–সংকটের মধ্যে গ্যাসের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলে পেট্রোবাংলা ভবন অবরোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির নেতারা বলেছেন, মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হলে পেট্রোবাংলার কর্মকর্তাদের ভবনে প্রবেশ কিংবা সেখান থেকে বের হতে দেওয়া হবে না।
শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারায় ‘রাজধানীসহ দেশজুড়ে বাসাবাড়ি, শিল্পকারখানা ও পরিবহনে গ্যাসের তীব্র সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে’ আয়োজিত সমাবেশ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে পেট্রোবাংলা ভবন অভিমুখে একটি প্রতীকী মিছিল বের করা হয়। কর্মসূচির আয়োজন করে এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা।
সমাবেশে এনসিপির কেন্দ্রীয় জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, জনগণের জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পরিবর্তে পেট্রোবাংলা ও তিতাসের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্নীতির কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, পেট্রোবাংলায় নিয়োগ ও পদোন্নতিকে ঘিরে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য হয়।
গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “গ্যাস–সংকটের কারণে মানুষ স্বাভাবিকভাবে রান্নাবান্নাও করতে পারছে না। এর মধ্যেই যদি দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়, তাহলে ঢাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে পেট্রোবাংলা ভবন অবরোধ করা হবে। গ্যাস–সংকটের দ্রুত সমাধান না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের পদত্যাগের দাবিও তোলা হবে।”
ঢাকা মহানগর উত্তর এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল মনসুর বলেন, আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে গ্যাস–সংকট নিরসন না হলে জনগণ গ্যাস অফিস ঘেরাও করবে। তিনি আরও বলেন, বিদ্যুতের মতো গ্যাসের দামও বাড়ানো হলে দল কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে।
সমাবেশে এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব জয়নাল আবেদীন শিশির, ঢাকা মহানগর উত্তরের যুগ্ম আহ্বায়ক অহিদুল আলম, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মাসুদুর রহমানসহ আরও কয়েকজন নেতা বক্তব্য দেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক প্রস্তাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম প্রায় ৬৭ শতাংশ এবং সিএনজির দাম ৫১ শতাংশ বাড়ানোর নীতিগত অনুমোদন চেয়েছে পেট্রোবাংলা। পাশাপাশি ছয়টি গ্যাস বিতরণ কোম্পানির বিতরণ চার্জ বৃদ্ধির প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি বিভাগের অনুমোদন পেলে বিষয়টি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কাছে যাবে। পরে গণশুনানি শেষে কমিশন এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
সমাবেশ শেষে সার্ক ফোয়ারা থেকে বের হওয়া মিছিলটি পেট্রোবাংলা ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে নেতারা জানান, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির উদ্যোগ প্রত্যাহার না হলে ধারাবাহিক আন্দোলনের পাশাপাশি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বিরুদ্ধেও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
/এএসএফ