• ঢাকা
  • বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০১:১২ এএম


‘শেখ হাসিনা দেশে এলে বিমানবন্দর থেকে সরাসরি ফাঁসির কাষ্ঠে নিয়ে আসা হবে’—এনসিপির আলোচনা সভায় নাহিদ

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৩ আগস্ট ২০২৬ ৯:৫১ পিএম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, শেখ হাসিনা যদি ডিসেম্বরে দেশে ফেরেন এবং তারেক রহমান দিল্লির সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে সেই ব্যবস্থা করেন, তাহলে তারা সেই পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা দেশে এলে তাকে বিমানবন্দর থেকে সরাসরি ফাঁসির মঞ্চে নেওয়া হবে।

সোমবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে এনসিপির আয়োজিত ‘শহীদ পরিবার ও আহতদের কণ্ঠে জনতার ১ দফা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্ণ হয়েছে। শহীদ মিনার থেকে ঘোষিত এক দফার প্রকৃত কারিগর ছিলেন জুলাইয়ের শহীদ ও আহত যোদ্ধারা। তাদের আত্মত্যাগের কারণেই দেশের মানুষ স্বাধীনভাবে কথা বলার সুযোগ পেয়েছে।

তিনি দাবি করেন, এক দফা আন্দোলনের লক্ষ্য আংশিক অর্জিত হলেও ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার সম্পূর্ণ বিলোপ এখনো হয়নি। তার ভাষায়, আন্দোলনের সময় যারা পাশে ছিলেন, তাদের কেউ কেউ পরবর্তীতে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের বিরোধিতা করেছেন।

বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, গত দুই বছরে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, প্রশাসনের দলীয়করণ, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটসহ নানা সমস্যা এখনো রয়ে গেছে। তিনি অভিযোগ করেন, সংস্কার কার্যক্রমেও বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে।

শহীদ পরিবার ও আহতদের জন্য পর্যাপ্ত উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, শহীদ পরিবার রাষ্ট্রের সম্পদ এবং তাদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, তিনি দেশে এলে তার বিচার ও শাস্তি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার জন্য তারা প্রস্তুত রয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, এনসিপি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আন্দোলন করেনি; তাদের লক্ষ্য ছিল ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা বিলোপ এবং এমন একটি রাষ্ট্র গঠন, যেখানে স্বৈরতন্ত্র, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির স্থান থাকবে না।

অনুষ্ঠানে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জাতীয় নারীশক্তির সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা মিতু এমপি, মুখ্য সংগঠক নুসরাত তাবাসসুম এমপি, শহীদ পরিবারের সদস্য এবং আহত যোদ্ধাদের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।

/এএসএফ