• ঢাকা
  • রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৫১ এএম


সরকারকে ৫ বছর দেশ পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না: নাহিদ ইসলাম

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৩১ জুলাই ২০২৬ ১১:৩৪ পিএম

সরকার খুব শিগগিরই জনগণের প্রবল প্রতিরোধের মুখে পড়তে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, পেট্রোবাংলা গ্যাসের দাম বাড়ানোর কথা বলেছে। এই সরকার ক্ষমতায় আসার পাঁচ মাসের মধ্যেই দফায় দফায় জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। কয়েক দিন পর আবাসিক এলাকাতেও গ্যাসের দাম বাড়ানো হবে। অথচ মানুষ ঠিকমতো গ্যাস পাচ্ছে না, কিন্তু নিয়মিত বিল দিতে হচ্ছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র বা যানবাহনে গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে এর প্রভাব সারা দেশে পড়বে। গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে পেট্রোবাংলা ঘেরাও করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে মানুষ রাজপথে নেমে আসবে বলে মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, সরকার যদি মনে করে এভাবে দেশ পরিচালনা করবে, সেটি সম্ভব নয়। খুব শিগগিরই সরকার জনগণের প্রবল প্রতিরোধের মুখে পড়তে যাচ্ছে।

হবিগঞ্জে এনসিপির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে এক চোখে গুরুতর আঘাত পাওয়া আলিফ চৌধুরীকে দেখতে আজ শুক্রবার রাতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে যান নাহিদ ইসলাম। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারকে পাঁচ বছর দেশ পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশের পরিস্থিতি খুবই খারাপ। ৭০ শতাংশ গণভোটের রায় অস্বীকার করে সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না। টিকে থাকতে হলে অবশ্যই শেখ হাসিনা সরকারের মতো দমন-পীড়ন ও নির্যাতনের পথ বেছে নিতে হবে। জনগণকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারের দমন-পীড়ন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।

সরকারের দলীয়করণের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, সরকার ১২টি প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোক বসিয়েছে। পদবঞ্চিত নেতাদের মূল্যায়ন করতে রাষ্ট্র ও সরকারযন্ত্রকে ব্যবহার করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এরই মধ্যে দেশ ও নিজের দল পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন এনসিপির আহ্বায়ক। তাঁর ভাষায়, যিনি তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না, নিজের দল পরিচালনা করতে পারেন না, তাঁর পক্ষে ১৮ কোটি মানুষের দেশ পরিচালনা করা অসম্ভব।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘অভিভাবকদের কাছে বলতে চাই, আপনার সন্তানরা এই সরকারের কাছে, এই দলের কাছে, বিএনপি এবং তার অঙ্গসংগঠনের কাছে নিরাপদ নয়। আজকে আলিফের চোখ গেছে, কাল আপনার সন্তানেরও চোখ যেতে পারে। কারণ, এই সন্ত্রাসী বাহিনীকে যদি প্রতিরোধ করা না যায়, তারা পুলিশ মানে না, তারা বিচার মানে না, কোনো কিছুই তারা মানে না।’

আলিফ চৌধুরীর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নাহিদ ইসলাম বলেন, আলিফের একটি চোখ নষ্ট হয়ে গেছে। পাশের চোখে আঘাতের প্রভাব কতটুকু, তা চিকিৎসকেরা এখনো বলতে পারছেন না। আগামীকাল বোর্ড সভার পর এ বিষয়ে তাঁরা জানাতে পারবেন।

আলিফ আহত হওয়ার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও সরকারের পক্ষ থেকে তাঁর খোঁজখবর না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ। তিনি বলেন, ভিডিও ফুটেজে স্পষ্ট দেখা গেছে, হবিগঞ্জ সদর থানা ছাত্রদলের সদস্যসচিব আলিফের ওপর আক্রমণ করেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সাংগঠনিক বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

নাহিদ ইসলামের অভিযোগ, এর মাধ্যমে সরকার বার্তা দিয়েছে যে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় ছাত্রদল ও যুবদলের নামে থাকা সন্ত্রাসী বাহিনীগুলো চাইলে যে কাউকে দিনদুপুরে আক্রমণ করতে পারে, মেরে ফেলতে পারে, চোখ উপড়ে নিতে পারে এবং এ দেশে তার বিচার হয় না। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে দেশে আইনের শাসন নেই—এ বিষয়টিই প্রতীয়মান হয়েছে।

সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা সংসদে বসে সুন্দর কথা বললেও তাঁদের এলাকায় গেলে আসল চরিত্র বোঝা যায় বলেও মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, এনসিপি নেতাদের ওপর হামলার পর বিএনপির সংসদ সদস্য জি কে গউছের জনপ্রতিনিধি হিসেবে থাকার কথা নয়। গণতান্ত্রিক দেশ হলে এতক্ষণে তিনি ক্ষমা চেয়ে পদত্যাগ করতেন অথবা দল থেকে তাঁকে বহিষ্কার করা হতো।

তবে এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কোনো বক্তব্য নেই বলে মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী স্কুলের বাচ্চাদের অফিসে ডেকে এনে ছবি তুলছেন। এটি জাতির সঙ্গে দ্বিচারিতা।