• ঢাকা
  • সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম


নাটোরে সদর হাসপাতালে ওষুধ দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে রোগীর মাকে ধর্ষনের অভিযোগ

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৯ জুন ২০২৬ ১০:২৪ পিএম

নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক শিশু রোগীর মাকে ধর্ষণের অভিযোগে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত তিন পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে গ্রেপ্তারের পর ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

মঙ্গলবার (৯ জুন) সন্ধ্যায় নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ মশিউর রহমান তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের সূত্র জানায়, তদন্ত কমিটিতে হাসপাতালের বাইরের দুইজন কর্মকর্তা এবং হাসপাতালের একজন কর্মকর্তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত রোববার (৭ জুন) রাতে চিকিৎসাধীন শিশুর জন্য ওষুধ দেওয়ার কথা বলে ২৬ বছর বয়সী এক নারীকে হাসপাতালের ছয়তলার সিঁড়িঘরে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। একই সঙ্গে ধর্ষণের দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টাও করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।

জানা গেছে, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে হাসপাতালের আনসার সদস্যরা অভিযুক্তদের হাতেনাতে আটক করলেও পরে তাদের ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার পর ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে নাটোর সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলার ভিত্তিতে পুলিশ তিন পরিচ্ছন্নতাকর্মী—অমিত (২৩), অনিল (২৪) ও প্রাঙ্গনকে (২৩) গ্রেপ্তার করেছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, তিনি সদ্য দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং ঘটনার পরপরই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। তার দাবি, ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের অনাপত্তির কারণে অভিযুক্তদের সাময়িকভাবে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল এবং সে সময় তাদের দেওয়া জবানবন্দি মামলার সঙ্গে সংযুক্ত করতে পুলিশকে অনুরোধ করা হয়েছে।

নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনসুর রহমান জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী নারীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে এবং ডাক্তারি পরীক্ষার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে সিসিটিভি ফুটেজও জব্দ করা হয়েছে।

ওসি বলেন, “মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অপরাধী যেই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

এদিকে ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শুরুতে বিষয়টিকে যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়ায় অভিযুক্তদের পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তদের রিমান্ডে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

/এএসএফ