• ঢাকা
  • রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪৬ পিএম


আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সরকার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেঃ প্রধানমন্ত্রী

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ৩:১৪ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষের ‘অ্যাকসেস টু জাস্টিস’ বা ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সরকার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, ন্যায়বিচার পাওয়া প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার এবং অর্থের অভাবে কেউ যেন আইনের আশ্রয় থেকে বঞ্চিত না হয়—এটাই সরকারের লক্ষ্য। মঙ্গলবার রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সব নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের আশ্রয় লাভের অধিকারী, যা জাতিসংঘ–এর ঘোষণাপত্রেরও প্রতিফলন। তিনি উল্লেখ করেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কোনো নাগরিক আর্থিক কারণে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হতে পারে না। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কারাবন্দী থাকাকালে তিনি দেখেছেন—অনেক অসচ্ছল মানুষ বছরের পর বছর বিনা বিচারে কারাগারে ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, ন্যায়বিচার শুধু আদালতের বিষয় নয়; এটি একটি মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থার ভিত্তি। রাষ্ট্রে আইনের শাসন, মানবাধিকার ও সমতা নিশ্চিত না হলে কোনো দেশ মানবিক রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে না। দীর্ঘ সময় পর দেশে গণতন্ত্রের পথে অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই যাত্রাকে সুসংহত করতে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠা জরুরি।

সরকারের লিগ্যাল এইড কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন মানুষ যেন শুধু অর্থের অভাবে আইনজীবীর সহায়তা না পেয়ে বিচার থেকে বঞ্চিত না হন, সে জন্য সরকার কার্যক্রম জোরদার করেছে। মামলার আগেই মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ইতোমধ্যে অনেক বিরোধ দ্রুত ও কম খরচে নিষ্পত্তি হয়েছে এবং আদালতের ওপর চাপও কমেছে।

তিনি বলেন, বিচার বিলম্ব মানেই বিচার অস্বীকার। তাই সময়মতো আইনি পরামর্শ ও সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে ছোট বিরোধ বড় আকার ধারণ না করে। জনগণের প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র সবসময় নাগরিকের পাশে রয়েছে—এই বিশ্বাসই লিগ্যাল এইড কার্যক্রমের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী হবে।

অনুষ্ঠানে সেরা প্যানেল আইনজীবী হিসেবে সায়েম খান ও নীলিমা বিশ্বাস সম্মাননা পান। পাশাপাশি ব্র্যাক–কে লিগ্যাল এইড কার্যক্রমে অবদানের জন্য সম্মাননা দেওয়া হয়, যা গ্রহণ করেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।