• ঢাকা
  • সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১২:০৭ এএম


চালক ও যাত্রীবেশে ছিন/তাই/কারী চক্র হ/ত্যা করেছে কাস্টমস কর্মকর্তা বু/লেট বৈরাগীকে, গ্রেপ্তার ৫ঃ র‍‍্যাব

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ৭:৩৪ পিএম

কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। সংস্থাটি জানিয়েছে, একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

সোমবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা চালক ও যাত্রীর ছদ্মবেশে কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়িয়ে দূরপাল্লার যাত্রীদের টার্গেট করত। পরে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সর্বস্ব ছিনিয়ে নিত।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—ইমরান হোসেন হৃদয় (৩৭), মোহাম্মদ সোহাগ (৩০), ইসমাইল হোসেন জনি (২৫), মোহাম্মদ সুজন (৩২) ও রাহাতুল রহমান জুয়েল (২৭)। তাঁদের কাছ থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা, চাপাতি ও সুইচ গিয়ার (এক ধরনের ছুরি) উদ্ধার করা হয়েছে।

র‍্যাব জানায়, ঘটনার রাতে কুমিল্লার জাগুরঝুলি বিশ্বরোড এলাকায় অবস্থান করছিল এই চক্র। বুলেট বৈরাগী চট্টগ্রাম থেকে প্রশিক্ষণ শেষে বাসায় ফিরছিলেন। শুক্রবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে তিনি সেখানে পৌঁছালে জুয়েল তাঁর গন্তব্য জানতে চান। তিনি জাঙ্গালিয়া যাবেন জানালে সোহাগ ও হৃদয় তাঁকে অটোরিকশায় তুলে নেয়।

পথে সোহাগ, জনি ও হৃদয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে আঘাত করে এবং ভয় দেখিয়ে মুঠোফোন, টাকা ও ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির মধ্যে চলন্ত অটোরিকশা থেকে তাঁকে ফেলে দেওয়া হয়। এতে মাথা ও মুখে গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, বাসার কাছাকাছি পৌঁছে তিনি একাধিকবার পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন। কিন্তু আর বাসায় ফিরতে পারেননি। পরদিন সকালে কুমিল্লার কোটবাড়ী এলাকায় ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন একটি হোটেলের পাশে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের মা নীলিমা বৈরাগী কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

বুলেট বৈরাগী টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি স্ত্রী ও এক সন্তানের জনক এবং বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান ছিলেন।

ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, এ ধরনের সংঘবদ্ধ ছিনতাই চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।