নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি-র নিখোঁজ ও হত্যাকাণ্ডের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। সন্দেহভাজন হিশামের বাসা থেকে উদ্ধার করা রক্তের নমুনার সঙ্গে বৃষ্টির ডিএনএ মিলেছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ-এর নিচে আরেক ভুক্তভোগী জামিল আহমেদ লিমন-এর দেহাবশেষ উদ্ধার করা হলেও এখনো বৃষ্টির সন্ধান পাওয়া যায়নি। আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় উদ্ধারকারীরা বিভিন্ন এলাকা তল্লাশি চালাচ্ছেন, তবে তার মরদেহ সম্পূর্ণ অবস্থায় পাওয়া যাবে কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
বৃষ্টির ভাই মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে জানান, তদন্তকারীরা তাদের জানিয়েছেন যে সন্দেহভাজনের বাসা থেকে পাওয়া রক্তের নমুনার সঙ্গে তার বোনের ডিএনএ মিলেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, পরিকল্পিতভাবে এই জোড়া হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
এদিকে আদালতে দাখিল করা নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জামিল লিমনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, এই হত্যার পেছনে ব্যক্তিগত আক্রোশ নাকি অন্য কোনো মনস্তাত্ত্বিক কারণ রয়েছে।
গ্রেফতার হওয়া সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে দুটি ‘ফার্স্ট ডিগ্রি মার্ডার’সহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পারিবারিক সহিংসতা, শারীরিক নির্যাতন, বেআইনি আটকে রাখা, প্রমাণ নষ্টের চেষ্টা, তথ্য গোপন এবং মৃতদেহ সরানোর অভিযোগ।
ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের আইনে এসব অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে মৃত্যুদণ্ড বা আজীবন কারাদণ্ড। এ মামলার পরবর্তী শুনানি ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি ও জামিল আহমেদ লিমন দুজনই ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা-এর পিএইচডি শিক্ষার্থী ছিলেন। গত ১৬ এপ্রিল তাদের সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল।
এ ঘটনায় বিচার নিশ্চিত এবং মরদেহ দেশে পাঠানোর বিষয়ে ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাস ও মায়ামির কনস্যুলেট সংশ্লিষ্ট মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে।
