সোহাগী জাহান তনু
সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার সন্দেহভাজন আসামি, সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে সংশ্লিষ্ট বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জিজ্ঞাসাবাদের সময় হাফিজুর রহমানের কাছ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা যাচাই-বাছাই করা হবে।
তিনি আরও বলেন, এ মামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সেনাবাহিনী থেকে অবসরপ্রাপ্ত আরও দুই ব্যক্তিকে খোঁজা হচ্ছে এবং তাদের দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
তনুর ভাই আনোয়ার হোসেন রুবেল জানান, তদন্ত কর্মকর্তার নির্দেশে তারা কুমিল্লা কারাগারে গেলেও আসামিকে দেখতে পারেননি, কারণ তাকে ইতোমধ্যে ভেতরে নেওয়া হয়েছিল।
এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করা হলে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। একই দিন ঢাকায় তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করা হয়।
পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের মে মাসে সিআইডি তনুর পোশাক থেকে সংগৃহীত নমুনায় তিনজন পুরুষের ডিএনএ পাওয়া যায়, তবে সেগুলো দীর্ঘদিন কারও সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। সম্প্রতি আদালতের অনুমতি নিয়ে সন্দেহভাজনদের ডিএনএ ক্রস-ম্যাচ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো সন্দেহভাজনদের একজনের ডিএনএ মিলিয়ে দেখার কাজ শুরু হয়েছে। বাকি দুইজনকে গ্রেপ্তার করা গেলে তাদেরও একইভাবে পরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।