জ্বালানি তেলের দাম বাড়বে না—এমন আশ্বাসের মধ্যেই শনিবার রাতে হঠাৎ দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয় সরকার। এর প্রভাব রবিবার সকাল থেকেই রাস্তায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে—গণপরিবহন কমে যায়, আর বাড়তি খরচে আগের ভাড়ায় বাস চালাতে অনাগ্রহ দেখান পরিবহন মালিকরা। ফলে বাসভাড়া ‘সমন্বয়’ করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
পেছনে তাকালে দেখা যায়, ২০২২ সালে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ৩৪ টাকা বাড়ার পর বাসভাড়া বাড়ানো হয়েছিল ২২ দশমিক ২২ শতাংশ। কিন্তু এবার ডিজেলের দাম মাত্র ১৫ টাকা বাড়লেও ভাড়া ৬৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে মালিকপক্ষ।
এই প্রস্তাব নিয়ে আজ সন্ধ্যায় ভাড়া নির্ধারণ কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ইতোমধ্যে বৈঠকের প্রস্তুতি শুরু করেছে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
মালিক সমিতির খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ মহানগরীতে বাসভাড়া ৬৪ শতাংশ এবং দূরপাল্লায় প্রায় ৩৭ শতাংশ বাড়ানোর আলোচনা হবে। বর্তমানে মহানগরে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া ২ টাকা ৪২ পয়সা, যা বাড়িয়ে ৩ টাকা ৯৬ পয়সা করার প্রস্তাব রয়েছে। দূরপাল্লায় ২ টাকা ৪৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৩ টাকা ৩৬ পয়সা করার কথা বলা হচ্ছে।
পরিবহন মালিকদের দাবি, শুধু জ্বালানির দাম নয়—ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, যন্ত্রাংশের দাম, শ্রমিক মজুরি—সব মিলিয়ে পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাদের মতে, আগে ৮২ টাকায় এক ডলার পাওয়া গেলেও এখন তা ১৩০ টাকায় পৌঁছেছে, যা আমদানিনির্ভর খাতে খরচ বাড়িয়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ।
তবে যাত্রীদের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাবের তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ভাড়া কমলে যাত্রীরা সুফল পান না, কিন্তু বাড়লে তা সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হয়। তার মতে, ভাড়া সর্বোচ্চ ১৫ পয়সা বাড়ানো যেতে পারে, এর বেশি নয়। একই সঙ্গে তিনি সেবার মান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের আগস্টে সর্বশেষ বড় আকারে বাসভাড়া বাড়ানো হয়। তখন ডিজেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও এবার তুলনামূলক কম বৃদ্ধি সত্ত্বেও ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব অনেক বেশি, যা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।