• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:২৭ এএম


জুলাই স্মৃতি জাদুঘর হবে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসের প্রতিচ্ছবি: প্রধানমন্ত্রী

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৫ আগস্ট ২০২৬ ২:৪১ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ শুধু জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণের স্থান নয়, বরং বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সংগ্রামের ইতিহাসের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠবে। তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরতে এই জাদুঘর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে স্বৈরাচারের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরবে। একই সঙ্গে দেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও সাহসিকতার ইতিহাস জাতীয় স্মৃতিতে সংরক্ষণের একটি ঐতিহাসিক উদ্যোগ হিসেবে কাজ করবে।

তিনি বলেন, আজকের দিনটি দেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এ সময় তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচারী শাসনামলে গুম, খুন ও নির্যাতনকে স্বাভাবিক করে তোলা হয়েছিল। ইতিহাস প্রমাণ করে, স্বৈরাচার কখনোই গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা মেনে নিতে পারেনি। তাই গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের ইতিহাস সংরক্ষণে এ জাদুঘরের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ আশা করে এই জাদুঘর কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক বক্তব্য প্রতিষ্ঠার স্থান হবে না। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান ছিল দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের সম্মিলিত আন্দোলন এবং এর প্রকৃত নায়ক সাধারণ জনগণ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল দেশের স্বাধীনতা অর্জনের সংগ্রাম, আর ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান ছিল স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন। তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের মতোই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদেরও জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য উপায়ে প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা হবে।

এর আগে সকালে ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি জাদুঘরের বিভিন্ন প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন এবং সেখানে সংরক্ষিত নিদর্শন, আলোকচিত্র, দলিলপত্র ও স্মারক পরিদর্শন করেন।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কন্যা জাইমা রহমান, সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

/এএসএফ