• ঢাকা
  • বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৫৩ পিএম


হাসিনার দেশত্যাগের ঘটনা নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ, আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যার অপেক্ষা!

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৫ আগস্ট ২০২৬ ২:৩৮ পিএম

গণ-অভ্যুত্থানের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত যাত্রা নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনার মধ্যে নতুন কিছু তথ্য সামনে এসেছে। তাকে দেশত্যাগে সহায়তাকারী সামরিক কর্মকর্তা, ব্যবহৃত হেলিকপ্টার ও বিমান, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এবং পুরো রেসকিউ মিশনের বিভিন্ন দিক নিয়ে একাধিক সূত্রের বরাতে এসব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো সরকার বা সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। পাশাপাশি প্রকাশিত তথ্যগুলোর একটি অংশ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সাবেক ও বর্তমান সামরিক সূত্রের বরাতে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ গণভবনের দিকে অগ্রসর হলে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে শেখ হাসিনাকে অল্প সময়ের মধ্যে গণভবন ত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে বিমানবাহিনীর একটি এমআই-১৭ হেলিকপ্টারে করে তাকে এবং তার বোন শেখ রেহানাকে কুর্মিটোলা এয়ার বেইজে নেওয়া হয় বলে সূত্রগুলোর দাবি।

প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, হেলিকপ্টারের পাইলট ও কো-পাইলট ছিলেন যথাক্রমে এয়ার কমোডর আব্বাস এবং গ্রুপ ক্যাপ্টেন রায়হান কবির। বিকেলে হেলিকপ্টারটি কুর্মিটোলা এয়ার বেইজে অবতরণ করে। সেখানে আগে থেকেই একটি সামরিক পরিবহন বিমান (সি-১৩০ জুলিয়েট) প্রস্তুত ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

আরও দাবি করা হয়েছে, ওই বিমানের পাইলট ছিলেন এয়ার কমোডর শামীম রেজা এবং কো-পাইলট ছিলেন উইং কমান্ডার মাহফুজ। বিমানটি বিকেল ৬টা ১৫ মিনিটে ভারতের হিন্দন বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে। নিরাপত্তাজনিত কারণে উড্ডয়নের সময় বিমানের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখা হয়েছিল এবং প্রচলিত রুটের পরিবর্তে বিকল্প পথ ব্যবহার করা হয় বলেও সূত্রগুলোর বক্তব্য।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কুর্মিটোলা এয়ার বেইজে হাসিনার নিরাপত্তা ও স্থানান্তর কার্যক্রম অত্যন্ত সীমিত পরিসরে পরিচালিত হয় এবং এ বিষয়ে মাত্র কয়েকজন দায়িত্বপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা অবগত ছিলেন। তবে এসব দাবির বিষয়ে সশস্ত্র বাহিনীর কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরেকটি সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, পুরো রেসকিউ মিশন দুটি ধাপে সম্পন্ন হয়। প্রথম ধাপে হেলিকপ্টারে করে গণভবন থেকে কুর্মিটোলা এয়ার বেইজে স্থানান্তর এবং দ্বিতীয় ধাপে সেখান থেকে সামরিক বিমানে ভারতে নেওয়া হয়। এ সময় পুরো কার্যক্রমের সমন্বয়ের দায়িত্বে বিমানবাহিনীর তৎকালীন এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।

প্রকাশিত তথ্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে নিরাপদে ভারতে পৌঁছে দেওয়ার পর বিমানটি পুনরায় বাংলাদেশে ফিরে আসে। পরবর্তীতে মিশনে অংশ নেওয়া কয়েকজন কর্মকর্তাকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কোর্সে বিদেশে পাঠানো হয় এবং পরে তারা নিজ নিজ দায়িত্বে যোগ দেন বলেও সূত্রগুলোর দাবি।

এদিকে, শেখ হাসিনার দেশত্যাগ এবং সংশ্লিষ্ট সামরিক কর্মকর্তাদের দায়িত্ব প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সাবেক সামরিক কর্মকর্তা মেজর (অব.) এম সরোয়ার হোসেনের বক্তব্যও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। তার মতে, আইন অনুযায়ী পদত্যাগের পরও সাবেক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিশেষ নিরাপত্তা সুবিধা পেয়ে থাকেন। সে কারণে নিরাপত্তায় নিয়োজিত সদস্যরা তাদের রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে তিনি সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, সে সময় পরিস্থিতি ভিন্নভাবে মোকাবিলার সুযোগ নিয়েও বিতর্ক থাকতে পারে।

প্রতিবেদনে উল্লেখিত বেশ কয়েকটি তথ্য এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে সরকার, সশস্ত্র বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও এসব দাবির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।

/এএসএফ