• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৩৭ এএম


আজ ৫ আগস্ট ‘৩৬ জুলাই’: গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী, দেশজুড়ে নানা আয়োজন

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৫ আগস্ট ২০২৬ ৮:৩৩ এএম

আজ ৫ আগস্ট। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী। আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেকের কাছে দিনটি পরিচিত ‘৩৬ জুলাই’ নামে। দুই বছর আগে এই দিনে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের শাসনের অবসান ঘটে। দিবসটি উপলক্ষে সারা দেশে রাষ্ট্রীয় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে এবং নানা কর্মসূচির মাধ্যমে শহীদদের স্মরণ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে।

দিবসটি উপলক্ষে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন।

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মহান স্বাধীনতাযুদ্ধ ও গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নই জাতির দায়িত্ব।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ছিল জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক বিজয়। তিনি বলেন, এই বিজয় ছাত্র-জনতা ও দেশের সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সংগ্রামের ফল। জাতীয় ঐক্য রক্ষা এবং ভবিষ্যতে যেন দেশে আর স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ, চরমপন্থা বা উগ্রবাদের উত্থান না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে আত্মত্যাগকারী সবাই জাতির শ্রদ্ধার পাত্র। শহীদ পরিবারের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা রয়েছে এবং তাদের আত্মত্যাগ কখনও বিস্মৃত হবে না।

দিবসটি ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও পৃথক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং অন্যান্য সংগঠন আলোচনা সভা, সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

সরকারি কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের ৬৪ জেলায় জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। সকাল ৯টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধন করবেন। বেলা ১১টায় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় শহীদ পরিবার ও আহতদের সম্মাননা, আলোচনা সভা এবং স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আলোচনা সভা, রচনা, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পাশাপাশি বিভিন্ন সম্প্রচারমাধ্যমে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করা হবে।

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে জুলাই আন্দোলনের আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি জাদুঘরগুলো আজ বিনা টিকিটে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। শিশুদের জন্য বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রেও বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু পরিবার, প্রতিবন্ধী কল্যাণ কেন্দ্র ও অন্যান্য সেবাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়েছে।

রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে বিকেলে ‘বর্ষা বিপ্লবের গান’ শীর্ষক একটি কনসার্ট অনুষ্ঠিত হবে। এতে দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড ও সংগীতশিল্পীরা অংশ নেবেন।

এদিকে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য ও চেতনা বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। বিভিন্ন মহল মনে করছে, শহীদদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনই এই দিবসের মূল অঙ্গীকার হওয়া উচিত।

/এএসএফ