• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৫ পিএম


ঢাকায় দুর্ঘটনার হটস্পট পাঁচটি, বেশি হয় রাতে-সকালে: রোড সেফটি ফাউন্ডেশন

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১ আগস্ট ২০২৬ ৮:৪০ পিএম

রাজধানী ঢাকায় গত সাড়ে ছয় বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১ হাজার ৩৮৪ জন এবং আহত হয়েছেন আরও ২ হাজার ৪৮৮ জন। নিহতদের মধ্যে প্রায় ৮২ শতাংশই পথচারী ও মোটরসাইকেল আরোহী। এমন তথ্য জানিয়েছে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংগঠন রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সাল থেকে সদ্য সমাপ্ত জুলাই মাস পর্যন্ত রাজধানীতে মোট ১ হাজার ৮৪৯টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় নিহতদের বেশির ভাগই পুরুষ হলেও নারী ও শিশুও রয়েছেন। দুর্ঘটনার দিক থেকে রাজধানীতে রাতের সময় সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ, এরপর রয়েছে সকাল। যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, মোহাম্মদপুর, কুড়িল বিশ্বরোড এবং বিমানবন্দর এলাকা বর্তমানে সড়ক দুর্ঘটনার হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।কয়েক বছর আগে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) এক গবেষণায় দেখা যায়, ২০০৭ সালে ঢাকার সড়কে যানবাহনের গড় গতি ছিল ঘণ্টায় ২১ কিলোমিটার। বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ঘণ্টায় মাত্র ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটারে। অন্যদিকে মানুষের হাঁটার গড় গতি এখন ঘণ্টায় ৪ দশমিক ১৫ কিলোমিটার।রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, রাজধানীতে রাত এবং সকালে দুর্ঘটনার হার সবচেয়ে বেশি। রাত ১০টা থেকে ভোর পর্যন্ত ঢাকার সড়কে মালবাহী ভারী যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল থাকায় রাস্তা পারাপারের সময় পথচারীরা বেশি প্রাণ হারাচ্ছেন। এছাড়া দীর্ঘ যানজটের কারণে চালকদের মধ্যে ধৈর্যহীনতা ও অসহিষ্ণুতা তৈরি হচ্ছে, যা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে কাজ করছে।প্রতিষ্ঠানটির হিসাব অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে পথচারী ছিলেন ৫৯২ জন, যা মোট নিহতের ৪২ দশমিক ৭৭ শতাংশ। মোটরসাইকেল আরোহী ছিলেন ৫৩৬ জন বা ৩৮ দশমিক ৭২ শতাংশ। এছাড়া বাস, রিকশা, সিএনজি ও অন্যান্য যানবাহনের চালক-যাত্রী মিলিয়ে নিহত হয়েছেন ২৫৬ জন, যা মোট নিহতের ১৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ।সময়ভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ভোরে নিহত হয়েছেন ১৪২ জন (১০ দশমিক ২৬ শতাংশ), সকালে ২৫৮ জন (১৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ), দুপুরে ১৯৫ জন (১৪ দশমিক ৮ শতাংশ), বিকেলে ১৭৪ জন (১২ দশমিক ৫৭ শতাংশ), সন্ধ্যায় ৯৬ জন (৬ দশমিক ৯৩ শতাংশ) এবং রাতে সবচেয়ে বেশি ৫১৯ জন (৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ) প্রাণ হারিয়েছেন।দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের মধ্যে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, পিকআপ, ট্যাংকার ও ময়লাবাহী ট্রাকের অংশ সবচেয়ে বেশি, যা ৩৩ দশমিক ২৫ শতাংশ। মোটরসাইকেল জড়িত ছিল ২৬ শতাংশ দুর্ঘটনায় এবং বাসের সম্পৃক্ততা ছিল ২১ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এছাড়া মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার ও জিপ ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং অটোরিকশা, সিএনজি ও লেগুনা ১২ দশমিক ৭৩ শতাংশ দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল।রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, সিগন্যাল ছেড়ে দেওয়ার পর রাজধানীর সড়কে যানবাহনগুলো বেপরোয়া হয়ে ওঠে। আবার রাত ও ভোরে ফাঁকা রাস্তায় চালকেরা অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালান। পাশাপাশি বাসে যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতাও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। তিনি বলেন, এসব বিষয় নিয়ন্ত্রণ করে এবং সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পারলে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

/বিএসএস