• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৫ এএম


সকালে স্কুল, বিকেলে বাদাম বিক্রি—১৩ বছরের রবিউলের সংগ্রামের গল্প

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৮ জুলাই ২০২৬ ৮:৫০ পিএম

মাদারীপুরের কালকিনি পৌরসভার মিনাজদী গ্রামের ১৩ বছর বয়সী রবিউল শেখের স্বপ্ন ছিল লেখাপড়া শেষ করে সরকারি চাকরি করার। তবে ২০২৪ সালে ক্যান্সারে বাবার মৃত্যুর পর সেই স্বপ্ন কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে সংসারের দায়িত্ব এসে পড়ে তার কাঁধে।

বাবার মৃত্যুর পর রবিউলের মা তাসলিমা বেগমও অসুস্থ হয়ে পড়েন। সংসারের খরচ এবং মায়ের চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে বাধ্য হয়ে রবিউল এখন প্রতিদিন বাজারে বাজারে ঘুরে বাদাম বিক্রি করে। তবুও পড়াশোনার স্বপ্ন ছাড়েনি সে। সকালে স্কুলে যায়, আর বিকেলে বাদাম বিক্রি করে সংসারের দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করে।

রবিউল জানায়, সংসারের প্রয়োজনের কারণে অনেক সময় নিয়মিত স্কুলে যেতে পারে না। তারপরও সে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চায় এবং একদিন প্রতিষ্ঠিত হয়ে মায়ের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন দেখে।

রবিউল কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন একাডেমির অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও আর্থিক সংকটের কারণে তার পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে অসুস্থতার কারণে তার মা কোনো কাজ করতে পারছেন না।

তাসলিমা বেগম বলেন, বাবার মৃত্যুর পর তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারি বা সমাজের বিত্তবান মানুষের সহায়তা পেলে রবিউল আবারও স্বাভাবিকভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবে।

কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন একাডেমির ইংরেজি শিক্ষক সমতল গাইন বলেন, রবিউল অত্যন্ত মেধাবী ও ভদ্র শিক্ষার্থী। আর্থিক সংকটের কারণে তার শিক্ষা ব্যাহত হচ্ছে। সমাজের সামর্থ্যবান মানুষ এগিয়ে এলে সে ভবিষ্যতে ভালো কিছু করতে পারবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফ উল আরেফিন বলেন, রবিউলের বিষয়টি তিনি জেনেছেন। পরিবার থেকে আবেদন করা হলে তার পড়াশোনার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি তার মাকেও সরকারি সহায়তার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

/এএসএফ