ভারতের হরিয়ানার পানিপথে ভাঙা পায়ের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এক নারীর হৃদযন্ত্রে স্টেন্ট বসানোর পর মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, তাদের অনুমতি ছাড়াই ওই অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ এবং মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
নিহত গুড্ডি দেবী সড়ক দুর্ঘটনায় পায়ের হাড় ভেঙে গত ২৪ জুলাই পানিপথের একটি বেসরকারি পার্ক হাসপাতালে ভর্তি হন। পরিবারের দাবি, তাকে অর্থোপেডিক চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হলেও পরদিন চিকিৎসকেরা জানান, তার হৃদযন্ত্রে স্টেন্ট বসানো হয়েছে।
গুড্ডি দেবীর ছেলে কুলদীপ অভিযোগ করেন, স্টেন্ট বসানোর আগে পরিবারের কোনো সদস্যের সম্মতি নেওয়া হয়নি। পাশাপাশি সম্মতিপত্রে পরিবারের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
পরিবারের ভাষ্য, চিকিৎসকদের অবহেলা, প্রতারণা এবং অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের কারণেই গুড্ডি দেবীর মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে প্রশ্ন তুললে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের ভয়ভীতি দেখিয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।
ঘটনার পর পানিপথের সেক্টর-২৯ থানার পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, পার্ক হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্বপ্না তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তিনি জানিয়েছেন, পরে হাসপাতালের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হবে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো বিস্তারিত বিবৃতি প্রকাশ করেনি।
/এএসএফ