একসময় ছোট্ট সংসার হলেও স্বপ্ন ছিল অনেক বড়। স্বামীর আয় ও নিজের চাকরির উপার্জনে দুই সন্তানকে উচ্চশিক্ষিত করার স্বপ্ন দেখতেন লাভলী বেগম। কিন্তু জীবন হঠাৎই বদলে যায়। প্রথমে হারান নিজের চাকরি, এরপর স্বামীর মৃত্যু তাকে ও তার পরিবারকে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করায়।
সংসারের একমাত্র ভরসা হারিয়ে চারদিকে নেমে আসে অনিশ্চয়তা। ছোট দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তিনি। অনেকেই সন্তানদের পড়াশোনা বন্ধ করে কাজে লাগানোর পরামর্শ দিলেও সেই পথে হাঁটেননি লাভলী বেগম।
জীবনের কঠিন সময়কে মেনে নিয়ে তিনি রাস্তায় একটি ছোট্ট চায়ের দোকান শুরু করেন। প্রতিদিন ভোরে দোকান খুলে সারাদিন চা বিক্রি করেন। সেই আয় দিয়েই সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ চালানোর চেষ্টা করছেন তিনি।
লাভলী বেগমের ভাষ্য, প্রতিদিনের আয় দিয়ে সংসার চালানো সহজ নয়। তারপরও সন্তানদের শিক্ষাজীবন যেন বন্ধ না হয়, সেটিই তার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য। তাই সব প্রতিকূলতার মধ্যেও সৎভাবে পরিশ্রম করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
তার এই সংগ্রাম শুধু জীবিকা নির্বাহের নয়, বরং একজন মায়ের দায়িত্ববোধ, আত্মসম্মান ও সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার অদম্য ইচ্ছাশক্তির প্রতিচ্ছবি। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও হাল না ছেড়ে তিনি প্রমাণ করেছেন, দৃঢ় মনোবল ও পরিশ্রম থাকলে কঠিন সময়ও মোকাবিলা করা সম্ভব।
/এএসএফ