• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৮ পিএম


দিল্লিতে গরু, মহিষ, উট কোরবানি নি’ষিদ্ধ ঘোষণা সরকারের

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৫ মে ২০২৬ ৯:০২ পিএম

আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে গরু, মহিষ, উটসহ নির্দিষ্ট কিছু পশু জবাইয়ের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে দেশজুড়ে নতুন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিতর্ক শুরু হয়েছে।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, রাস্তা, গলি, খোলা মাঠ কিংবা অন্য কোনো প্রকাশ্য স্থানে পশু কোরবানি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, শুধুমাত্র সরকার অনুমোদিত নির্ধারিত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কোরবানি করা যাবে।

এছাড়া অবৈধ পশুর হাট, রাস্তার পাশে পশু কেনাবেচা এবং অননুমোদিত স্থানে পশু জবাইয়ের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।

দিল্লি সরকারের উন্নয়নমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, গরু, বাছুর, উট এবং কিছু নির্দিষ্ট প্রাণী কোরবানি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

প্রশাসনের দাবি, এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে মূলত জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ সুরক্ষা এবং নগর পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার জন্য। নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, কোরবানির পর পশুর রক্ত বা বর্জ্য কোনোভাবেই ড্রেন, নর্দমা কিংবা সড়কে ফেলা যাবে না।

ভারতে বিদ্যমান বিভিন্ন আইন, যেমন পশু সংরক্ষণ আইন, পশু নির্যাতন প্রতিরোধ আইন এবং স্লটার হাউস বিধিমালার ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। রাজধানী দিল্লিতে দীর্ঘদিন ধরেই গরু জবাই সীমিত বা নিষিদ্ধ থাকায় নতুন নির্দেশনাকে বিদ্যমান আইনি কাঠামোরই সম্প্রসারণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে।

তবে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনাও বাড়ছে। মানবাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন বলছে, ঈদের ঠিক আগে এমন কঠোর বিধিনিষেধ মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় চর্চার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। তাদের মতে, এটি শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, এর সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাবও রয়েছে।

অন্যদিকে প্রশাসন ও শাসক দলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এটি কোনো ধর্মীয় ইস্যু নয়। বরং আইন-শৃঙ্খলা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং পশু কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্যই এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তবে বিরোধী পক্ষের অভিযোগ, এ ধরনের সিদ্ধান্ত মূলত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করেই নেওয়া হচ্ছে। এতে সামাজিক বিভাজন আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

বিশ্লেষকদের মতে, ভারতে কোরবানিকে ঘিরে বিতর্ক নতুন কোনো বিষয় নয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজনৈতিক মেরুকরণ বেড়ে যাওয়ায় বিষয়টি আরও বেশি সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। এর ফলে ধর্মীয় স্বাধীনতা, রাষ্ট্রীয় আইন এবং সামাজিক সহাবস্থানের প্রশ্নে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে রূপ নিতে পারে।

সূত্র: এনডিটিভি , টাইমস অব ইন্ডিয়া

/এসএন