ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তদন্ত, শান্তিতে নোবেল পেলেন নাভি পিল্লাইআন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অবদানের জন্য চলতি বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্মগ্রহণকারী মানবাধিকারকর্মী নাভি পিল্লাই। জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার পিল্লাই ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিষয়ে জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ওই কমিশনের প্রতিবেদনে গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। খবর টাইমস অব ইসরায়েলের।শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নরওয়ের নোবেল কমিটি শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য নাভি পিল্লাইয়ের নাম ঘোষণা করে।নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান ইয়র্গেন ওয়াটনে ফ্রাইডনেস জানান, শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ৮৫ বছর বয়সী পিল্লাইকে এ পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।নোবেল কমিটির ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক আইন ও বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় পিল্লাইয়ের অগ্রণী ভূমিকা, বিচারিক দৃঢ়তা, ব্যক্তিগত সততা এবং সাহসিকতা পুরস্কার প্রদানের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন নাভি পিল্লাই। এ সময় তিনি বিভিন্ন ইস্যুতে ইসরায়েলের সমালোচনা করতেন।২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের শতাধিক সদস্য পিল্লাইয়ের কাছে একটি চিঠি পাঠান। এতে তারা অভিযোগ করেন, তাঁর নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল ইসরায়েলের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে। তাঁদের দাবি ছিল, হামাসের কর্মকাণ্ডের তদন্তের তুলনায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তদন্তে বেশি গুরুত্ব দেওয়ায় সংস্থাটির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।পরবর্তী সময়ে ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশনের নেতৃত্ব দেন পিল্লাই। কমিশনটি ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত করে।কমিশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড গণহত্যার সংজ্ঞার আওতায় পড়ে। প্রতিবেদনে ফিলিস্তিনিদের ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগও তুলে ধরা হয়।তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন নিয়ে পিল্লাই বলেন, গাজার ফিলিস্তিনিদের ইচ্ছাকৃতভাবে বা পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করার কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে, যা গণহত্যা কনভেনশনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।তবে গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে পরিচালিত যুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে ইসরায়েল। ফলে এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আইনি ও কূটনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।এ ছাড়া ২০১৯ সালে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) দায়ের করা মামলায় অস্থায়ী বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন নাভি পিল্লাই। আন্তর্জাতিক বিচার ও মানবাধিকার সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের উল্লেখযোগ্য অংশ।
/বিএসএস