• ঢাকা
  • শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৪ এএম


মুন্সীগঞ্জে চাচাকে গুলি করে হ/ত্যা, নিউইয়র্কে ভাতিজার ১৫ বছরের কারাদণ্ড

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৮ মে ২০২৬ ১১:২২ পিএম

বাংলাদেশের মুন্সীগঞ্জে ২০২১ সালে সংঘটিত এক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। নিজের আপন চাচাকে গুলি করে হত্যার দায়ে গনেট রোজারিও নামে ৫৪ বছর বয়সি এক ব্যক্তিকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন নিউইয়র্কের একটি আদালত।

বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট আদালতের বিচারক এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত গনেট রোজারিও নিউইয়র্কের ব্রঙ্কস এলাকার বাসিন্দা। তিনি এবং নিহত মাইকেল রোজারিও—দুজনই জন্মসূত্রে বাংলাদেশি হলেও মার্কিন নাগরিক ছিলেন।

আদালতের নথিপত্র ও প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, মুন্সীগঞ্জে পৈতৃক সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চাচা-ভাতিজার মধ্যে বিরোধ চলছিল। ২০২১ সালের জুন মাসে উভয়েই বাংলাদেশে এসে তাদের পৈতৃক বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।

ঘটনার দিন ১১ জুন সন্ধ্যায় বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে ধূমপান করছিলেন গনেট রোজারিও। এ সময় তিনি ঘরের ভেতর থেকে তার চাচা মাইকেল রোজারিওকে তাকে নিয়ে অপমানজনক মন্তব্য করতে শোনেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গনেট ঘর থেকে একটি শটগান নিয়ে আসেন।

প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি চিৎকার করে বলেন, “আগামীকালের সূর্য তুমি আর দেখবে না।” এরপর জানালার ওপার থেকে চাচাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। গুলিটি মাইকেল রোজারিওর পেটে লাগে এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

হত্যাকাণ্ডের পর ২০২৩ সালের জুলাইয়ে গনেট রোজারিও যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান। পরে ২০২৪ সালের এপ্রিলে বিদেশের মাটিতে মার্কিন নাগরিক হত্যার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের লস অ্যাঞ্জেলেস ও নিউইয়র্ক ফিল্ড অফিস সরাসরি অংশ নেয়। এছাড়া ঢাকাস্থ এফবিআইয়ের লিগ্যাল অ্যাটাশে এবং মার্কিন বিচার বিভাগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক শাখাও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আদালতে গনেট রোজারিও নিজের অপরাধ স্বীকার করে নেওয়ার পর তাকে এই দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

মার্কিন বিচার বিভাগ মামলাটি সফলভাবে পরিচালনায় বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতার জন্য বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এ টাইসেন ডুভা এবং ইউএস অ্যাটর্নি জে ক্লেটন এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, বিদেশের মাটিতে মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধে সংঘটিত যেকোনো অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তাদের ভাষ্য, এই রায় প্রমাণ করে যে অপরাধ যেখানেই সংঘটিত হোক না কেন, বিচার থেকে রেহাই পাওয়ার সুযোগ নেই।