বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে পরাজয়ের পরও পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার এই অবস্থানকে ঘিরে তীব্র সমালোচনা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের বিজেপির সাবেক সভাপতি ও খড়্গপুর সদরের বিধায়ক দিলীপ ঘোষ। তিনি মমতাকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সঙ্গে তুলনা করে কটাক্ষ করেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিলীপ ঘোষ বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিতলেই নৈতিক, বাকি সব অনৈতিক। জনতার আশীর্বাদকে যিনি স্বীকার করেন না, রাজনীতিতে তার কোনো জায়গা নেই। তিনি হচ্ছেন শাড়ি পরা ট্রাম্প।”
তিনি আরও বলেন, “ট্রাম্প যেমন পরাজয়ের পরও সরে দাঁড়াননি এবং লোকজনকে রাস্তায় নামিয়ে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করেছিলেন, তেমনই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারত। নির্বাচন কমিশন কঠোর না হলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও জনতাকে রাস্তায় নামিয়ে জোর করে দখল করার চেষ্টা করতেন।”
সাধারণত নির্বাচনের পর মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ করেন। যদি বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় এবং তাকে পরিষদীয় দলের নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়, তাহলে তিনি পুনরায় শপথ নেন। অন্যথায় তাকে পদ ছাড়তে হয়।
এর আগে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করা হয় তিনি রাজভবনে যাবেন কি না। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কেন, কীসের জন্য? আমরা তো হারিনি যে যাব। হারলে আমি যদি শপথ নিতে যেতাম, তাহলে আমি রেজিগেশনটা করতাম। এখন তো কোয়েশ্চেন ডাস নট অ্যারাইজ। জোর করে দখল করে যদি কেউ মনে করে যে আমি গিয়ে রেজিগেশনটা দিতে হবে—নো, নট দ্যাট। আমি এখনও বলতে চাই, আমরা নির্বাচনে হারিনি। জোর করে আমাদের হারানোর জন্য ওদের চেষ্টা এটা।”
নির্বাচন-পরবর্তী এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
/এসএন