তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে আসা বিজয়–এর দল তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম (টিভিকে) বিধানসভা নির্বাচনে ১০৮টি আসন জিতে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে উঠে এসেছে। ২৩৪ আসনের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮ আসন। সে হিসেবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে মাত্র ১০টি আসন দূরে ছিল বিজয়ের দল।এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস তাদের সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তামিলনাড়ু প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির এক ভার্চুয়াল বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। তবে এই সমর্থন পুরোপুরি নিঃশর্ত নয়; মন্ত্রিসভায় দুটি মন্ত্রী পদ এবং কয়েকটি সরকারি বোর্ডের চেয়ারম্যান পদ চাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে কংগ্রেসের, যারা নির্বাচনে ৫টি আসন পেয়েছে। বুধবারের মধ্যেই আনুষ্ঠানিক সমর্থনপত্র দেওয়া হতে পারে।দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারকারী ডিএমকে ও এআইএডিএমকে–এর একচ্ছত্র আধিপত্য ভেঙে এবার নতুন শক্তির উত্থান ঘটেছে। ১৯৬৭ সালের পর এই প্রথম তামিলনাড়ুতে ঐতিহ্যগত দুই দলের বাইরে অন্য কোনো দল সরকার গঠনের অবস্থানে পৌঁছেছে।তামিলনাড়ু–র রাজধানী চেন্নাইয়ে নবনির্বাচিত বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকের পর ধারণা করা হচ্ছে, আগামী ৭ মে বিজয় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন। তাঁর সঙ্গে আরও নয়জন মন্ত্রীও শপথ নিতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।কংগ্রেস ছাড়াও বামপন্থী দল, ভিসিকে ও আইইউএমএলের মতো ছোট দলগুলোর সঙ্গেও আলোচনা চালাচ্ছে টিভিকে। এসব দলের সমর্থন মিললে একটি স্থিতিশীল জোট সরকার গঠন সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও ডিএমকে এখনো আশাবাদী যে বাম দলগুলো তাদের পাশেই থাকবে, তবে কংগ্রেসের অবস্থান স্পষ্ট হওয়ার পর রাজনৈতিক চাপ অনেকটাই বেড়েছে।এদিকে চেন্নাইয়ের পানাইয়ুর এলাকায় টিভিকে কার্যালয়ে কংগ্রেস বিধায়কদের সঙ্গে বিজয়ের বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে। জোটটি সফল হলে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সিনেমার ‘থালাপতি’ হিসেবে পরিচিত বিজয় এবার বাস্তব রাজনীতিতে শাসকের ভূমিকায় আসতে যাচ্ছেন—এটাই এখন সবার আলোচনার।
/বিএসএস