• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১০ এএম


হরমুজ থেকে ৫০০ কিলোমিটার দূরে চলে গেছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, দাবি ইরানের

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৫২ পিএম

হরমুজ প্রণালির আশপাশ থেকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো অন্তত ৫০০ কিলোমিটার দূরে সরে গেছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। সংগঠনটির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি বলেছেন, আগে হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশে ৩০ থেকে ৪০টি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ টহল দিলেও বর্তমানে সেখানে মার্কিন নৌবাহিনীর কোনো জাহাজ নেই।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক বিবৃতিতে মোহেব্বি বলেন, মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের বাহরাইন ঘাঁটি থেকেও বর্তমানে কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজ পারস্য উপসাগরে অবস্থান করছে না। তাঁর দাবি, যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ ও পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের যে নৌ উপস্থিতি ছিল, সাম্প্রতিক সময়ে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো প্রণালির প্রবেশমুখ থেকে অন্তত ৫০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে।

মোহেব্বি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হুমকি সামরিক পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র আড়াল করে নিজেদের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা। দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো সক্ষমতা ও সাংগঠনিক কাঠামো মার্কিন সামরিক বাহিনীর নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এগুলো আইআরজিসির বক্তব্য; এর স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি।

তবে মার্কিন নৌবাহিনীর অবস্থান নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনের কার্যক্রমের কথা বলা হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, তাদের প্রতিবেদকরা ওই যুদ্ধজাহাজে গিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান পর্যবেক্ষণ করেছেন। ফলে আইআরজিসির মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো ৫০০ কিলোমিটার দূরে সরে যাওয়ার দাবিটি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই আইআরজিসির এই বক্তব্য এলো। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রণালিটি পুনরায় চালু করা, জাহাজ চলাচল এবং ইরানের ওপর মার্কিন অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলছে।

ইরান সম্প্রতি শর্তসাপেক্ষে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাবটির মধ্যে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের জব্দ সম্পদ ছাড় এবং তেল নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মতো বিষয় রয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ওই প্রস্তাবের জবাব পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) জানিয়েছে, ২০২৫ সালে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও তেলজাত পণ্য এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়েছে, যা সমুদ্রপথে বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যের প্রায় ২৫ শতাংশ। একই সঙ্গে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় অংশও এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।

প্রায় ২১ নটিক্যাল মাইল বা ৩৯ কিলোমিটার প্রশস্ত এই প্রণালি ইরান ও আরব উপদ্বীপের মাঝখানে অবস্থিত। এটি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ফলে এই জলপথে দীর্ঘস্থায়ী কোনো বিঘ্ন তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন তৈরি হওয়ায় ইতোমধ্যে জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, প্রণালিটি দিয়ে তেল পরিবহনের পরিমাণ আবারও বাড়ছে। ওয়াশিংটনও হরমুজ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে মার্কিন নৌবাহিনীর সুরক্ষা দেওয়ার কথা জানিয়েছে।

এ অবস্থায় হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন ও ইরানি নৌবাহিনীর অবস্থান নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। আইআরজিসি মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো দূরে সরে যাওয়ার দাবি করলেও, রয়টার্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন হরমুজে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করেছে। ফলে দুই পক্ষের সামরিক অবস্থান সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন তথ্য পাওয়া না পর্যন্ত আইআরজিসির দাবিকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।

হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের অবসানে কূটনৈতিক আলোচনা কতটা এগোয়, এখন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজর সেদিকেই।

/এএসএফ