যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের নাম পরিবর্তন করে ‘নিউ আমেরিকা’ রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের একটি মানচিত্র পোস্ট করেন তিনি। সেখানে ‘মেক্সিকো’ শব্দটি লাল দাগ দিয়ে কেটে তার নিচে ‘আমেরিকা’ লেখা দেখা যায়।
ট্রাম্পের পোস্ট করা মানচিত্রটি পরে হোয়াইট হাউস তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স অ্যাকাউন্টেও পুনরায় পোস্ট করে। তবে পোস্টটির সঙ্গে নিউ মেক্সিকোর নাম পরিবর্তনের বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
এদিকে, নিউ মেক্সিকোর নাম পরিবর্তনের বিষয়ে হোয়াইট হাউস থেকেও কোনো আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ বা ঘোষণা দেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানতে সিএনএন হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
এর কয়েক দিন আগেই যুক্তরাষ্ট্রের লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ রাখার উদ্যোগ নিয়েছিলেন ট্রাম্প। গত মাসের শেষ দিকে তিনি এ বিষয়ে একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের জিওগ্রাফিক নেমস ইনফরমেশন সিস্টেমে (জিএনআইএস) থাকা ভৌগোলিক স্থানগুলোর নাম পরিবর্তনের ক্ষমতা রয়েছে। এই ব্যবস্থার আওতায় জলাশয়ের নামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে আইনগতভাবে কোনো অঙ্গরাজ্যের নাম পরিবর্তনের সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নেই। কোনো অঙ্গরাজ্যের নাম বদলাতে হলে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই একটি নির্বাহী আদেশ জারি করে মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘গালফ অব আমেরিকা’ রাখার উদ্যোগ নিয়েছিলেন ট্রাম্প।
নিউ মেক্সিকোর নাম পরিবর্তনের বিষয়ে ট্রাম্পের পোস্টের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অঙ্গরাজ্যটির ডেমোক্র্যাট গভর্নর মিশেল লুজান গ্রিশাম। রোববার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘যে সময়ে প্রেসিডেন্ট ইরানে তার বিপর্যয়কর যুদ্ধ থেকে মার্কিন নাগরিকদের মনোযোগ সরানোর চেষ্টা করছেন, সে সময়ে গ্যাসের দাম বেড়েই চলেছে। হোয়াইট হাউস যখন মানচিত্রে রং করার কাজে সময় নষ্ট করছে, তখন নিউ মেক্সিকো নিজেদের কাজ করে যাচ্ছে।’
নিউ মেক্সিকোর ডেমোক্র্যাট সিনেটর মার্টিন হেইনরিখও ট্রাম্পের ওই পোস্টের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এক্সে তিনি বলেন, ‘তিনটি বিষয়কে আমি সব সময় তাদের প্রকৃত নামেই ডাকব-মেক্সিকো উপসাগর, লেক অন্টারিও এবং নিউ মেক্সিকো।’
নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের নামের ইতিহাস ষোড়শ শতাব্দী থেকে শুরু হয়েছে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র একটি দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ারও আগে থেকেই এই নামের ইতিহাস রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে ট্রাম্প বিভিন্ন সময় ভৌগোলিক স্থানের নাম পরিবর্তনের ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেছেন। কানাডার সঙ্গে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ বাণিজ্যযুদ্ধের মধ্যেই তিনি লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেন।
এ ছাড়া আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরের নাম পরিবর্তনের ইচ্ছার কথাও প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প।
/এসএন