• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৩ পিএম


২৬ বছর পর্যন্ত গাড়ির সেলসম্যান, ডিএনএ পরীক্ষায় জানলেন তিনি রাজপুত্র

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৪ আগস্ট ২০২৬ ৬:৫৯ পিএম

রূপকথার গল্পের মতোই অবিশ্বাস্য এক ঘটনা ঘটেছে বেলজিয়ামে। ২৬ বছর বয়স পর্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করে গাড়ির সেলসম্যান হিসেবে কাজ করেছেন ক্লেমঁ ভানদেনকার্কহোভ। অথচ ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, তিনি বেলজিয়ামের রাজপরিবারের সদস্য এবং তার বাবা রাজা ফিলিপের ছোট ভাই প্রিন্স লরাঁ।ক্লেমঁর জন্ম ২০০০ সালের আগস্টে। তার মা ওয়েন্ডি ভান ওয়ানটেন একজন বেলজিয়ান গায়িকা। তার আসল নাম আইরিস ভানদেনকার্কহোভ। ১৯৯০-এর দশকে প্যারিসের একটি ফ্যাশন শোয়ে প্রিন্স লরাঁর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরবর্তী সময়ে দুজনের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে উঠলেও তা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি।ক্লেমঁর বয়স যখন ১৬ বছর, তখন তার মা তাকে জানান, তার বাবা কোনো সাধারণ মানুষ নন; তিনি বেলজিয়ামের রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স লরাঁ। তবে বাবার পরিচয় জানার পরও সঙ্গে সঙ্গে রাজপরিবারের কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাননি তিনি।চার বছর পর, অর্থাৎ ২০ বছর বয়সে ক্লেমঁ তার বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর দুজনের সম্মতিতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার ফলাফলেও নিশ্চিত হয়, ক্লেমঁই প্রিন্স লরাঁর জৈবিক সন্তান।পিতৃত্বের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর বাবা ও ছেলের মধ্যে যোগাযোগ বাড়তে থাকে। ক্লেমঁ জানিয়েছেন, তারা নিজেদের মধ্যে খোলামেলা ও আন্তরিকভাবে কথা বলেছেন। তবে জৈবিক সম্পর্ক নিশ্চিত হওয়ার পরও আইনি স্বীকৃতির জন্য তাকে আরও অপেক্ষা করতে হয়েছে।অবশেষে প্রায় ছয় মাস আগে একেবারে নীরবে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রিন্স লরাঁ ক্লেমঁকে নিজের ছেলে হিসেবে আইনগতভাবে স্বীকৃতি দেন। চলতি সপ্তাহে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।আইনি স্বীকৃতি পাওয়ার ফলে প্রিন্স লরাঁর ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে তার অন্য সন্তানদের মতোই উত্তরাধিকার পাওয়ার অধিকার তৈরি হয়েছে ক্লেমঁর। প্রিন্স লরাঁর স্ত্রী প্রিন্সেস ক্লেয়ারের ঘরে আরও তিন সন্তান রয়েছেন—প্রিন্সেস লুইস, প্রিন্স নিকোলাস ও প্রিন্স আয়মেরিক।তবে রাজপরিবারে ক্লেমঁর ভূমিকা সীমিতই থাকবে। তিনি কোনো রাজকীয় ভাতা পাবেন না। একই সঙ্গে তাকে কোনো সরকারি বা আনুষ্ঠানিক দায়িত্বও পালন করতে হবে না। এমনকি বেলজিয়ামের সিংহাসনের ওপরও তার কোনো অধিকার থাকবে না।বাবার পারিবারিক পদবি ‘সাক্স–কোবুর্গ’ গ্রহণের সুযোগ থাকলেও আপাতত নিজের মায়ের পদবি ‘ভানদেনকার্কহোভ’ই রাখতে চান ক্লেমঁ। তার কাছে এই নাম শুধু একটি পদবি নয়, বরং মায়ের পরিচয় ও অবদানের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। তাই মায়ের কাছ থেকে পাওয়া নামটি ছেড়ে দেওয়া তার কাছে বিশ্বাসঘাতকতার মতো।বেলজিয়ামের রাজপরিবারে পিতৃত্ব নিয়ে এমন ঘটনা অবশ্য এটাই প্রথম নয়। প্রিন্স লরাঁর বাবা এবং বেলজিয়ামের সাবেক রাজা দ্বিতীয় আলবের্তও দীর্ঘদিন পিতৃত্ব নিয়ে একটি আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হয়েছিলেন।শেষ পর্যন্ত ২০২০ সালে দ্বিতীয় আলবের্ত স্বীকার করেন, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের মাধ্যমে তার একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। সেই সন্তান ডেলফিন বোয়েলও দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর রাজকন্যার মর্যাদা পান। বর্তমানে তিনি ডেলফিন দ্য সাক্স–কোবুর্গ নামে পরিচিত।এভাবেই জীবনের ২৬ বছর পর্যন্ত সাধারণ এক গাড়ির সেলসম্যান হিসেবে জীবন কাটানো ক্লেমঁ ভানদেনকার্কহোভের পরিচয় বদলে গেল ডিএনএ পরীক্ষা ও দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। বাস্তব জীবনের এই ঘটনা যেন রূপকথার গল্পকেও হার মানায়।

সূত্র: সিএনএন

/বিএসএস